মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) নতুন ইতিহাস গড়লেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। লিগের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জিতেছেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত এই সাফল্যের দিনে জয় পায়নি তাঁর দল ইন্টার মায়ামি।
রোববার (৮ নভেম্বর) এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে শার্লট এফসির মুখোমুখি হয় মায়ামি। নিজেদের মাঠ ন্যু স্টেডিয়ামে ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলে ড্র করে দলটি। ম্যাচে অবশ্য গোল পাননি মেসি।
তবে পুরো মৌসুমে ২৬ গোল করে গোল্ডেন বুট নিজের করে নিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এফসি ডালাসের পেতার মুসা করেছেন ২২ গোল। ২১ গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে ন্যাশভিলের স্যাম সারিজ। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের ব্রায়ান হোয়াইট ২০ গোল করে রয়েছেন চতুর্থ স্থানে।
গত মৌসুমে ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন মেসি। এক মৌসুমে তাঁর সেই গোলসংখ্যা এমএলএসের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ। এবার গোলের সংখ্যা কিছুটা কমলেও লিগের অন্যতম ধারাবাহিক গোলদাতা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি।
মায়ামির আক্রমণভাগেও সবচেয়ে বড় অবদান মেসির। নিয়মিত মৌসুমে ৮০ গোল করে লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছে দলটি। এর মধ্যে মেসি একাই করেছেন ২৬ গোল। অর্থাৎ দলের মোট গোলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এসেছে তাঁর পা থেকে।
গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মেসি। মৌসুমে তাঁর অ্যাসিস্ট ১৭টি, যা লিগে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করা পেপ বিয়েলের চেয়ে মাত্র একটি কম। মাঠে ২ হাজার ৬৬৪ মিনিট খেলেই এই অবদান রেখেছেন তিনি।
গোলের সুযোগ তৈরি ও শট নেওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিলেন মেসি। নিয়মিত মৌসুমে ১৮৩টি শট নিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মিলান ইলোস্কির শট ১২২টি। লক্ষ্যে রাখা শটের সংখ্যায়ও সবার ওপরে মেসি—৭৬টি। এ তালিকায় তাঁর পরেই রয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির ডেনিস বুয়াঙ্গা, যাঁর লক্ষ্যে রাখা শট ৫১টি।
আগস্টে মন্ট্রিয়লের বিপক্ষে মায়ামির ৭-১ গোলের জয়ে একাই চার গোল করেছিলেন মেসি। মৌসুমে সেটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স।
এবার মায়ামির সামনে এমএলএস কাপ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। ২০১১ ও ২০১২ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির পর আর কোনো দল টানা দুই মৌসুমে এই শিরোপা জিততে পারেনি। ইস্টার্ন কনফারেন্সে রেকর্ড গড়া ন্যাশভিলের পেছনে দ্বিতীয় হয়ে প্লে-অফে উঠেছে মায়ামি। প্রথম রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ সপ্তম বাছাই কলম্বাস ক্রু।
ব্যক্তিগতভাবে মেসির সামনে রয়েছে আরো একটি বড় অর্জনের সুযোগ। টানা তৃতীয়বারের মতো এমএলএসের বর্ষসেরা খেলোয়াড় বা এমভিপি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তিনি। গত মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।
এর আগে কেবল প্রেকিই ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে দুবার এমভিপি হয়েছিলেন। এবার গোল্ডেন বুট জয় মেসির এমভিপি হওয়ার দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে এই পুরস্কার নির্ধারণে শুধু গোলের হিসাব নয়, গণমাধ্যমকর্মী, খেলোয়াড় ও ক্লাব কর্মকর্তাদের ভোটও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
এসি/আপ্র/০৮/১১/২০২৬