ইতালি পাঠানোর কথা বলে ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর এক নারীকে লিবিয়ায় পাঠিয়ে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং আরো ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মো. আবুল হোসেন (৬৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত ৭টার দিকে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানাধীন কাড়িহাতা গ্রামে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের বান্দুমিয়ার ছেলে।
সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগী নারীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ২৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেন। পরে ২০২৪ সালের ১২ জুন তাকে লিবিয়ায় পাঠানো হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর মানব পাচারচক্রের সহযোগীরা ওই নারীকে একটি স্থানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা দিতে না পারায় তাকে আরো নির্যাতন করা হয় বলে মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন।
পরে সুযোগ বুঝে ওই নারী আটকে রাখার স্থান থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন। এরপর লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারায় মামলাটি করা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রেফতার আবুল হোসেনের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি আরো জানায়, গ্রেফতার আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের একই ধারায় আরো একটি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর করা ওই মামলাতেও তিনি এজাহারনামীয় আসামি।
গ্রেফতার আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৩০/৯/২০২৬