গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

মেনু

শেখ হাসিনার দিল্লি বক্তব্যে ভারতের সহযোগিতা চায় ঢাকা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:০৮ পিএম, ০৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৪ এএম ২০২৬
শেখ হাসিনার দিল্লি বক্তব্যে ভারতের সহযোগিতা চায় ঢাকা
ছবি

সোমবার রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিদেবী -ছবি সংগৃহীত

দণ্ডিত পলাতক আসামি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

সোমবার (৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিররের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ সহযোগিতা প্রত্যাশার কথা জানান।

তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে একটি ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় যুক্ত হতে পারেন—এমন খবর আলোচনায় আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পলাতক শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ব্যক্তি যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বৈঠকে ভারতের হাইকমিশনার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া এবং এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানানো হয়।

এর আগে সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদও শেখ হাসিনার দিল্লি অনুষ্ঠান নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানকে ঘিরে ভারতে এমন আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

শামা ওবায়েদ বলেন, “ভারত সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা আশা করে না যে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো পলাতক আসামি রাজনৈতিক বক্তব্য দেবেন বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। আওয়ামী লীগ অনলাইন বৈঠক করবে বা অন্য কোনো কার্যক্রম চালাবে—এ বিষয়ে ভারত সরকার সমর্থন করে কি না, সেটি ভারত সরকারকেই স্পষ্ট করতে হবে।”

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’র আয়োজনে একটি ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় যুক্ত হতে পারেন শেখ হাসিনা। ওই দিনটি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তার দেশ ছাড়ার দিন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, “আমরা আপত্তি কার কাছে জানাব? তিনি একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান এবং বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি কোথায় কী বলছেন, তার জবাব দেওয়ার মতো সময় বাংলাদেশ সরকারের নেই।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে চায়। কোনো ধরনের কর্মকাণ্ডে সেই সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা বাংলাদেশ বা ভারত কেউই চায় না।

শামা ওবায়েদ জানান, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আগেও ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়েছে। যেহেতু তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, তাই বিষয়টি ভারত সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে।

৫ আগস্টের অনুষ্ঠান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার আয়োজন করছে না। তবে প্রয়োজন মনে করলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

এদিকে শেখ হাসিনার দিল্লি অনুষ্ঠান ঘিরে ভারতের সংসদীয় কমিটির একটি প্রতিবেদনও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখার বিষয়টি সেখানে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত সরকার জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে অনুষ্ঠানের আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ বিষয়ে ভারত সরকারের আপত্তি নেই।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারত, চীনসহ সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সানা/আপ্র/৩/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
০৩ আগস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিসহ তিনটি...

বাংলাদেশে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল বিরোধী দল এখন: মির্জা হাসান
০৩ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল বিরোধী দল এখন: মির্জা হাসান

বর্তমান বাংলাদেশে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল বিরোধী দল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভ...

৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতার সক্ষমতা নেই আওয়ামী লীগের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০৩ আগস্ট ২০২৬

৫ আগস্ট ঘিরে তৎপরতার সক্ষমতা নেই আওয়ামী লীগের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের তৎপরতা বা নাশকতা চালানোর সক্ষমতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেই...

৫ আগস্ট সংবাদপত্র অফিসে ছুটি ঘোষণা নোয়াবের
০৩ আগস্ট ২০২৬

৫ আগস্ট সংবাদপত্র অফিসে ছুটি ঘোষণা নোয়াবের

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ আগস্ট দেশের সংবাদপত্র অফিসে ছুটি ঘোষণা করেছে নিউজপেপার ওনার্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বেনজীরকে ফেরাতে দুবাইয়ে আইনি লড়াই শুরু সরকারের

দুবাইয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করেছে সরকার। তার জামিন আদেশ বাতিলের উদ্যোগ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 21 ঘন্টা আগে