জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় নারীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করছে সরকার। জলবায়ু-সংবেদনশীল কর্মসূচি ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়ে উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গ্রামীণ নারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকায় তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জলবায়ু বাজেটেও এ অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটেছে। ‘জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও অভিযোজনে নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি’ কর্মসূচির জন্য ৬ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ‘প্রত্যন্ত এলাকায় নারীদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ’ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২২ হাজার ১৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।
জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এর ভূমিকায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জলবায়ু-সহনশীল এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, এবারের জাতীয় বাজেট ১০টি কৌশলগত অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে, যার অন্যতম লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
বাস্তবমুখী অভিযোজন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পটুয়াখালীর দুমকির মতো লবণাক্ততাপ্রবণ এলাকায় জলবায়ু-সহনশীল ব্রি ধান-৬৭ জাতের চাষ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় নারী কৃষকেরা প্রতিকূল পরিবেশেও কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে খাদ্য উৎপাদনে অবদান রাখতে পারছেন।
এ ছাড়া সংস্কার করা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের জন্য পৃথক স্যানিটেশন ও ধোয়া-মোছার ব্যবস্থা, নিরাপদ অবস্থানের স্থান, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির সুবিধা এবং স্থানীয় হাট-বাজারে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পৃথক বিপণন এলাকা গড়ে তোলার কাজও চলমান রয়েছে।
এসি/আপ্র/০৩/০৮/২০২৬