প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা, আর সেই দায়িত্ব পালনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাসস।
আজ বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণীতে তিনি বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সব সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী প্রাণ দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। এ ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে।’
তিনি বলেন, এ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কার্যক্রমকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়ে ওঠে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং শিল্প-একাডেমি সহযোগিতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেন তিনি।
মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণার পরিবেশ জোরদার এবং উদ্ভাবনমুখী শিক্ষা বিস্তারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী দেশে-বিদেশে শিক্ষা, বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাঁদের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনে অ্যালামনাইদের পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বহুমাত্রিক শিক্ষাকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও নৈতিক শিক্ষায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরিপ্রার্থী না হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
বাণীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন তিনি।
সানা/আপ্র/১/৭/২০২৬