গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু করছে সরকার

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৪৩ পিএম, ০১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৪৯ এএম ২০২৬
পরিবার পরিকল্পনা জোরদারে বছরব্যাপী কার্যক্রম শুরু করছে সরকার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

পরিবার পরিকল্পনা জোরদার, জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বছরব্যাপী প্রচার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে কর্মসূচি চলবে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এর আওতায় জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনার উপকরণ ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’ স্লোগান সামনে রেখে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে প্রজনন হার বৃদ্ধি এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট প্রজনন হার বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে। অন্যদিকে, জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের হার ৬২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৮ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিয়ে বছরব্যাপী বড় ধরনের জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম শুরু হবে। এটি চলবে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই কার্যক্রম শুরু করা হবে। জারি গান, সারি গান, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলাসহ নানা মাধ্যমে স্লোগান প্রচার করা হবে। তবে উদ্যোগটি শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা সেবাও পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রজনন হার ও অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ নিয়ে উদ্বেগ

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে দেশে মোট প্রজনন হার ছিল ৬ দশমিক ৩। ২০২২ সালে তা কমে ২ দশমিক ১৫-এ নেমেছিল। তবে ২০২৫ সালে আবার বেড়ে ২ দশমিক ৪ হয়েছে। গত দুই বছর কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা বন্ধ থাকায় মাঠপর্যায়ে প্রচার ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

প্রকাশিত তথ্যে দেশে বাল্যবিবাহের হার ২৪ শতাংশ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার ৪৯ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ৬১ শতাংশের ক্ষেত্রে অনিরাপদ গর্ভপাত ঘটছে বলেও জানানো হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গতিশীল করতে ২২ দফা কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।

২২ দফা কর্মপরিকল্পনা

কর্মপরিকল্পনায় মহিলা সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার, হাটবাজারে বিনা মূল্যে চিকিৎসাশিবির, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের অংশগ্রহণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্র্যান্ড প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত করার উদ্যোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ‘মা ও গর্ভবতী সুরক্ষা সমাবেশ’, বস্তি ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা, ২৩ হাজার ৫০০ ইউনিটে ‘ওয়েলবিং ক্লাব’ গঠন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘পরিবার সংলাপ’, কৈশোর ও যুববান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, নবদম্পতিদের পরামর্শ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে পুরুষদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনা মূল্যে সরকারি পরিবার পরিকল্পনা উপকরণের প্রচার, পল্লিচিকিৎসক ও ধাত্রীদের সঙ্গে রেফারেল অংশীদারত্ব এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি, পুরুষ, গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাটের প্রচার কার্যক্রম, র‌্যালি ও সমন্বয় সভার বাইরে এক বছরে বিভিন্ন সচেতনতামূলক উদ্যোগে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নভেম্বরে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন এবং ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাটের প্রচার কার্যক্রম এবং উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রীর মজুতসংকট

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাঠকর্মীরা কনডম, খাবার বড়ি, আইইউডি, ইনজেকশন ও ইমপ্ল্যান্টসহ প্রায় ২৮ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী বিনা মূল্যে সরবরাহ করেন। তবে দুই বছরের বেশি সময় ধরে এসব সামগ্রী কেনা বন্ধ থাকায় অনেক উপজেলা ও মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত মজুত নেই।

অধিদপ্তরের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের পর্যবেক্ষণ ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের ১৯৮টি উপজেলায় কনডমের মজুত পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ৩৫৪টি উপজেলায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এবং ৪২৮টি উপজেলায় আইইউডির মজুত নেই।

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বাসসকে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের অসমাপ্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গর্ভনিরোধক সামগ্রী কেনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ডিসেম্বর নাগাদ এসব সামগ্রী সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে বিতরণ শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জিন্নাত রেহানা বলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী কোথায় পাওয়া যাবে এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, তা মানুষকে জানানো প্রয়োজন। এ জন্যই জাতীয় পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কমাতে হবে। একটি সন্তানের পর পরবর্তী সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ বিরতি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করতে হবে।

জনবলসংকটও বড় চ্যালেঞ্জ

পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বাস্তবায়নের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জনবলসংকটের কথা জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। তাঁর ভাষ্য, মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দেওয়া পরিবার কল্যাণ সহকারীদের বড় ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, অধিদপ্তরে প্রায় ৩৭ শতাংশ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। প্রায় ১৯ থেকে ২০ হাজার কর্মী এখনো নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জনবলসংকটের মধ্যেও বিদ্যমান কর্মীদের দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চলছে।

এসি/আপ্র/০১/১১/২০২৬

 

 

 

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেফতার
০১ নভেম্বর ২০২৬

তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী গ্রেফতার

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দিশা নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলি...

সোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন, পরে লাইসেন্স
০১ নভেম্বর ২০২৬

সোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন, পরে লাইসেন্স

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে সোমবার (২ নভেম্বর) থেকে ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম...

ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ডাটাবেজ, ঘরে বসেই মিলবে খতিয়ান
০১ নভেম্বর ২০২৬

ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল ডাটাবেজ, ঘরে বসেই মিলবে খতিয়ান

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে জমির রেকর্ড সংগ্রহ ও খতিয়ান যাচাইয়ের সুযোগ বাড়ছে। ভূম...

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন লালন শাহ: দীনেশ ত্রিবেদী
০১ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন লালন শাহ: দীনেশ ত্রিবেদী

ফকির লালন শাহকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন বলে অভিহিত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই