মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে দেশের সব মাদ্রাসায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ১০টি ইভেন্টের পাশাপাশি আর্চারি, শুটিং ও হকি খেলার নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন কুঁড়ি ২০২৬-এর প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেও মাদ্রাসা প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও শারীরিক শিক্ষা শাখা থেকে জারি করা দুটি পৃথক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
এক নির্দেশনায় বলা হয়, মাদকাসক্তি ও অতিরিক্ত ডিজিটাল আসক্তি মোকাবিলার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং ক্রীড়াকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠায় এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ১০টি ইভেন্টের পাশাপাশি আর্চারি, শুটিং ও হকি খেলার নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে সব মাদ্রাসাপ্রধানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
অন্য একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্য থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তর ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্য নির্দেশনায় নতুন কুঁড়ি ২০২৬-এর প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। সেই থেকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণ ও সংস্কৃতির বিকাশে অনুষ্ঠানটি ভূমিকা রেখে আসছে।
নতুন কুঁড়ি ২০২৬-এর প্রতিযোগিতা চারটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হলো আঞ্চলিক বাছাই, বিভাগীয় বাছাই, চূড়ান্ত বাছাই ও ফাইনাল। দেশের ১৮টি জেলায় আঞ্চলিক বাছাই এবং আটটি বিভাগে বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ৬ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু-কিশোরেরা এতে অংশ নিতে পারবে। গত ১ অক্টোবর থেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে।
প্রতিযোগিতাটি সফল করতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অধিদপ্তরের আওতাধীন মাদ্রাসার শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মাদ্রাসা প্রধানদের অনুরোধ জানিয়েছে অধিদপ্তর।
এসি/আপ্র/০১/১১/২০২৬