পাবনা জেলা সদরে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে (১৬) যৌন হয়রানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার পরিচালক আবু ইউসুফকে (৫৫) পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ লোকজন মাদ্রাসা ভবনটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবু ইউসুফ একটি একতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাটি পরিচালনা করতেন। বাড়ির একটি কক্ষে ছাত্রীরা থাকতেন। তাঁদের সঙ্গে একজন নারী শিক্ষক থাকতেন। পাশের একটি কক্ষে থাকতেন মাদ্রাসার পরিচালক আবু ইউসুফ।
ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তাঁর সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে ওই ছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কক্ষ থেকে বের হন। এ সময় আবু ইউসুফ তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিজের কক্ষে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আরেক ছাত্রী ঘটনাটি দেখতে পেয়ে বাইরে গিয়ে লোকজনকে ডাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েকজন জানান, সকালে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তাঁরা মাদ্রাসা ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় সেখানে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় পুলিশ।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক যুবক বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষকের গায়ে কাপড় ছিল না বলে দেখতে পান। পরে তাঁকে বেঁধে রেখে থানায় খবর দেওয়া হয়।
শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটিতে আগুন জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। শত শত উৎসুক মানুষ বাড়িটি ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।
ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘ভোরে ঘটনার পরই মেয়েটি ছুটে এসে বিষয়টি জানায়। আমরা দ্রুত গিয়ে আটক ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ঘটনা স্বীকার করার পর পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাদ্রাসার অন্য ছাত্রীদের নিরাপদে তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, ক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। আটক শিক্ষক থানায় আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর চাচা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। মামলা দায়ের হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
সানা/আপ্র/২৩/১০/২০২৬