সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে গত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি অর্থনীতিতে সংস্কার, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের কাজ অনেকটা চূড়ান্ত হওয়া, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সরবরাহ এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। ভোটের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনী ইশতেহারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। এর আগে সরকারের প্রথম ১০০ দিনেও প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে বিষয়ভিত্তিক ও খাতভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অর্থনীতিতে সংস্কারের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের কাজ অনেকটা এগিয়ে নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়। এর মধ্যে কৃষক কার্ড, পারিবারিক কার্ড, ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী এবং প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহারের মতো পদক্ষেপ রয়েছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেলের দাম বাড়লেও সরকার দীর্ঘ সময় দাম না বাড়িয়ে সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করেছে। রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো ঠেকাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করায় দীর্ঘ সময় পর বড় ধরনের শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে জ্বালানি ও গ্যাস সংকট। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন গ্যাস অনুসন্ধান ও আহরণে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং বাপেক্সকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে; এমনকি মিয়ানমার থেকেও পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় জনগণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে এবং জনগণের কষ্টের জন্য সরকার দুঃখিত। তবে প্রধানমন্ত্রীর চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগের কথাও জানান নজরুল ইসলাম খান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সরকারের ছয় মাসের এই হিসাব তাই একদিকে অর্জনের দাবি, অন্যদিকে সংকট মোকাবিলার কঠিন বাস্তবতা। নজরুল ইসলাম খান নিজেই বলেছেন, ছয় মাসে যা করা হয়েছে, তা হয়তো প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়, আবার একেবারেই কমও নয়। এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—পরিসংখ্যান ও ঘোষণার বাইরে এসব উদ্যোগের সুফল কত দ্রুত মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হয়। জনগণের কাছে শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মাপকাঠি হবে বক্তব্য নয়, বাস্তব পরিবর্তন।
সানা/আপ্র/১৭/৮/২০২৬