ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে উত্তর ও দক্ষিণ দিক থেকে একযোগে সমন্বিত হামলার আশঙ্কা করছে সৌদি আরব। দেশটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ দিক থেকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং উত্তর দিক থেকে ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো হামলা চালাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের গোয়েন্দা তথ্য থেকে এমন আশঙ্কার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দর রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সৌদি আরব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তরের কিছু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছে, যা উত্তর ও দক্ষিণ দুই দিক থেকে সমন্বিত অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
সৌদি কর্মকর্তার এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটি নতুন করে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও ইরাকভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা বেড়েছে।
সৌদি আরবের অভিযোগ, জুলাইয়ের শেষ দিকে দেশটির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা ছিল। এর পর সৌদি আরব ইরাকে ওই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে বিমান হামলা চালায়।
ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, তারা সৌদি হামলার জবাব দেবে। তবে সৌদি কর্মকর্তা বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি।
এদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। সৌদি সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেছেন, হুতিরা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে এবং সৌদি জাহাজ ও সামরিক স্থাপনায় একাধিক হামলার দাবি করেছে। এর জবাবে ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। সূত্র: রয়টার্স
সানা/আপ্র/৭/৮/২০২৬