রেকর্ড গড়া তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত যুক্তরাজ্যে এয়ার কন্ডিশনার (এসি)–এর চাহিদা নজিরবিহীনভাবে বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিতে এসির মজুত প্রায় শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা।
গত ২৬ জুন যুক্তরাজ্যে জুন মাসের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর মাধ্যমে ১৯৫৭ সালের ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের দীর্ঘ ৬৯ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে যায়।
কেমব্রিজশায়ারের এলিভিত্তিক এসি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী নিক বার্টন বিবিসি রেডিও কেমব্রিজশায়ারকে বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাজ্যে এসির ইউনিটের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে।
তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয় না, খুব বেশি দিন দেশের বাজারে এসির ইউনিট অবশিষ্ট থাকবে। এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।’
নিক বার্টন বলেন, ক্রমেই উষ্ণ হয়ে ওঠা গ্রীষ্মকাল এই শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। একসময় এসিকে বিলাসপণ্য হিসেবে দেখা হলেও এখন এটি প্রয়োজনীয় যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে।
তিনি জানান, সাধারণত গ্রীষ্মের একটি সপ্তাহে তাদের প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৩০টি এসি স্থাপনের অনুরোধ আসত। কিন্তু গত সপ্তাহে মাত্র সাত দিনের মধ্যে ৯০০টিরও বেশি ইনস্টলেশনের আবেদন পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাড়তি চাহিদার পরও সরবরাহকারীরা এখন পর্যন্ত এসির দাম বাড়াননি।
এদিকে বিবিসির জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’–এর বিজয়ী এবং এসি উদ্যোক্তা ডিন ফ্র্যাঙ্কলিনও মনে করছেন, যুক্তরাজ্যের বাড়িঘরে এসি এখন ধীরে ধীরে অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, ‘এখন যেমন এসি ছাড়া গাড়ির কথা মানুষ কল্পনাও করে না, ভবিষ্যতে বাড়ির ক্ষেত্রেও ঠিক একই চিত্র দেখা যাবে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আবাসিক ভবনগুলোতে এসির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং এ খাতের চাহিদাও আরো বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র: বিবিসি
এসি/আপ্র/০৬/০৭/২০২৬