থাইল্যান্ডে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর চালানো পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় অন্তত নয় জন বৌদ্ধ ভিক্ষু নিহত হয়েছেন। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তীর্থযাত্রায় থাকা ভিক্ষুদের ভিড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সজোরে ধাক্কা দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১১টার কিছু আগে রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে মুকদাহান প্রদেশে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’।
প্রদেশের গভর্নর ভোরায়ান বুনারাত জানান, ৩৪ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পাঁচজন অনুসারীর একটি দল একটি মন্দির থেকে প্রতিবেশী উবোন রাতচাথানি প্রদেশের আরেকটি মন্দিরে তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন। পথেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
উদ্ধারকারী দলের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গেরুয়া পোশাক পরা ভিক্ষুরা সড়ক দিয়ে হাঁটছিলেন, এ সময় হঠাৎ একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের ওপর উঠে যায়।
দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে আহত ব্যক্তিদের রাস্তায় পড়ে থাকতে এবং ভিক্ষুদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
গভর্নর জানান, পাঁচ জন ভিক্ষু ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো তিন জনের মৃত্যু হয়। পরে মুকদাহান প্রাদেশিক কার্যালয় নবম ভিক্ষুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় অন্তত তিন জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, শিশুটি তার মা–বাবার পিকআপ ভ্যানটি অনুমতি ছাড়া নিয়ে বের হয় এবং প্রায় ১০ কিলোমিটার চালানোর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভিক্ষুদের ওপর তুলে দেয়।
পুলিশ প্রধান মেজর জেনারেল পাইরোজ থাইফুত্রা বলেন, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তবে এখনো কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় এখনো তার জবানবন্দি নেওয়া সম্ভব হয়নি।
থাইল্যান্ডে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র। দেশটির জনসংখ্যার বড় অংশই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। ভিক্ষুরা প্রায়ই জনসম্মুখে শোভাযাত্রা করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দান গ্রহণ করেন।
‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটে। অতিরিক্ত গতি, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং দুর্বল আইন প্রয়োগকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গভর্নর ভোরায়ান বুনারাত বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এ ঘটনা নতুন করে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। তিনি বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে, বিশেষ করে অভিভাবকদের, দায়িত্ব নিতে হবে। এমন দুর্ঘটনা কেউই চায় না।”
সানা/আপ্র/৩/৭/২০২৬