ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য বড় হামলার সতর্কতা জারির পরপরই কিয়েভের আকাশ কেঁপে ওঠে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) রাতে রাশিয়া মধ্যপাল্লার ওরেসনিক ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা শুরু করে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসক তৈমুর তাকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, রাজধানী বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং বেশ কিছু জায়গা থেকে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের খবর আসছে।
রাশিয়ার এই হামলাকে একটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা গত শুক্রবার(২২ মে) রাশিয়ার অধিকৃত ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের স্টারোব্লিসকের একটি কলেজে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওই ঘটনাকে ‘জঙ্গি হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রুশ বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজের ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ১৮টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও তিনজন আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কলেজে হামলার এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইউক্রেনীয় বাহিনী সব সময় রাশিয়ার সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিখুঁত হামলা চালায়। গত শুক্রবার লুহানস্কের ওই এলাকায় মূলত রুশ বাহিনীর ‘রুবিকন’ ইউনিটের সদর দপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশেষ রুবিকন ইউনিটটি রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন উদ্ভাবন ও তৈরির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে এবং অধিকৃত অঞ্চলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও অধিকৃত অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সফলভাবে নিশানা করেছিল ইউক্রেনীয় বাহিনী। তারই প্রতিক্রিয়ায় মস্কো এবার ইউক্রেনের রাজধানীতে এই ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানলো।
এসি/আপ্র/২৪/০৫/২০২৬