ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন-এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও তিনি সুস্থ ও নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে ইরান সরকার।
বুধবার (১১ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছেলে ও সরকারের উপদেষ্টা ইউসুফ পেজেশকিয়ান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনি আহত হন। এই খবর প্রকাশের পরই ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন সর্বোচ্চ নেতা সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক স্টোরিতে ইউসুফ পেজেশকিয়ান বলেন, “আমি খবর পেয়েছিলাম মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন কয়েকজন বন্ধুর কাছে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন, আল্লাহর রহমতে তিনি নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন মোজতবা খামেনিকে চলমান “রমজান যুদ্ধের আহত যোদ্ধা” হিসেবে উল্লেখ করলেও তার আঘাতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা ও তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই হামলায় মোজতবা খামেনির পায়ে আঘাত লাগে।
বাবার মৃত্যুর পর তিন দিন আগে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসম্মুখে আসেননি। এমনকি গত রোববার তার নাম ঘোষণা হওয়ার পরও তিনি জাতির উদ্দেশে কোনো ভাষণ দেননি বা লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করেননি। এতে তার স্বাস্থ্য ও অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রথম দিনেই তিনি আহত হন এবং বর্তমানে ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন, যেখানে যোগাযোগের সুযোগ সীমিত। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইরানি ও দুজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। সূত্র: এএফপি, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
সানা/ডিসি/আপ্র/১১/৩/২০২৬