বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগকে গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি বলে অভিহিত করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর বরাতে জানা গেছে, কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘অযৌক্তিক কথাবার্তা’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয়।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই অভিযোগ করে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ চুরি করেছে। সংস্থাটির দাবি, গত সপ্তাহে এ ঘটনা ঘটে।
ব্লকচেইন বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসও হামলার পেছনে একই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছে। জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরির ২০ মিনিটের মধ্যেই অধিকাংশ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ঘটনাকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক চুরি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালে বাইবিট নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের অর্থ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্যও উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দায়ী করা হয়েছিল।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক পুনরায় শুরুর প্রস্তাব নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্লেষকদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ দ্রুত অস্বীকার করার পেছনে দেশটির সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। তাঁদের মতে, উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র উন্নয়নে অর্থ জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বন্ধের চেষ্টা জোরদার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, চুরির ঘটনার পর বাইন্যান্স বিভিন্ন নেটওয়ার্কে লেনদেন ও অর্থ উত্তোলন আবার চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে বাইন্যান্স স্মার্ট চেইন, ইথেরিয়াম, সোলানা, এক্সআরপি ও সুইসহ কয়েকটি নেটওয়ার্কে আরও কিছু মুদ্রা উত্তোলনের সুযোগ চালু হবে। আরবিট্রাম, অপটিমিজম, ট্রন ও বেস নেটওয়ার্কের নির্দিষ্ট কিছু মুদ্রাও এ উদ্যোগের আওতায় থাকবে।
বাইন্যান্সের দাবি, চুরি হওয়া অধিকাংশ অর্থ তারা নিজেদের তহবিল থেকে পূরণ করেছে।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে
এসি/আপ্র/০৩/১১/২০২৬