দেশে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫’ প্রণয়ন করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা সংশ্লিষ্টদের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।
নীতিমালায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি সাশ্রয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি—এই তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) খাতকে একটি টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তরের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, ইভি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১ শতাংশ সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি আরোপ, আমদানি ও স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০৪০ সাল পর্যন্ত আয়কর অব্যাহতি এবং ব্যাটারি উৎপাদনে কর ছাড়। পাশাপাশি ২০৩০ সাল পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) অব্যাহতি ও নিবন্ধন ফি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
নীতিমালার ভিশন অনুযায়ী, দেশে একটি শক্তিশালী ও টেকসই ইভি শিল্প গড়ে তোলা হবে। মিশন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে পরিবহন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এতে স্থানীয়ভাবে ইভি উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্ভাবনা তৈরি এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নীতিমালায় ইভি খাতে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন প্রণোদনা রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি সারাদেশে চার্জিং স্টেশন স্থাপন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক চার্জিং সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নতুন ভবনে চার্জিং অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইভির নিবন্ধন, ফিটনেস ও মান নির্ধারণে বিদ্যমান আইন অনুসরণ করা হবে। তিন চাকার ইলেকট্রিক যান (ইজি বাইক) নির্ধারিত মান অনুযায়ী পরীক্ষা শেষে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ ইলেকট্রিক ভেহিকেল করতে হবে। এ খাতের উন্নয়নে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প উন্নয়ন কাউন্সিল’ গঠন করা হবে, যা বাস্তবায়ন, তদারকি ও মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নীতিমালাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি সাশ্রয় এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এসি/আপ্র/২১/০৪/২০২৬