বেরোবি প্রতিনিধি: বাঁশপাতা থেকে পরিবেশবান্ধব চা তৈরির উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দুই শিক্ষার্থী মাহিদ ও আজিজ। তাঁদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে এক লাখ টাকার তহবিল দেওয়া হবে। বাঁশপাতার সম্ভাবনাময় ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে নতুন একটি পণ্য বাজারে আনার লক্ষ্য তাঁদের।
বিজয়ী দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁরা যৌথভাবে বাঁশপাতা ব্যবহার করে বিকল্প চা উৎপাদনের একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন পর্যায়ের বাছাই পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের ধারণা তুলে ধরে প্রথম স্থান অর্জন করেন তাঁরা।
জানা যায়, বাঁশপাতার বহুমুখী ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে প্রথমে উদ্যোগটির পরিকল্পনা করেন মাহিদ। পরে সহপাঠী আজিজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় আবেদন করেন তিনি। প্রাথমিক বাছাইয়ে নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা বুটক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে ধারণাটিকে আরো সুসংগঠিত করার সুযোগ পান। পরে চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করে দেশসেরা হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ইউনিলিভার, গ্রিন ভয়েস, দ্য আর্থ সোসাইটি ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা ছিলেন বলে জানিয়েছেন বিজয়ী শিক্ষার্থীরা।
নিজেদের উদ্যোগের পেছনের ভাবনা তুলে ধরে মাহিদ বলেন, “আমরা হঠাৎ করেই ভাবলাম, বাংলাদেশে বাঁশপাতার চা নিয়ে কাজ করা যায় কি না। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আজিজকে সঙ্গে নিয়ে আবেদন করি। পরে নির্বাচিত হয়ে বুটক্যাম্পে অংশ নিই এবং শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান অর্জন করি।”
বাঁশপাতার সম্ভাবনা সম্পর্কে মাহিদ আরো বলেন, “বাঁশপাতা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এতে সিলিকা, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আমরা বাঁশপাতার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব একটি চা বাজারে নিয়ে আসতে চাই।”
উদ্যোক্তাদের ধারণা, বাঁশপাতার চা স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের জন্য বিকল্প পানীয় হিসেবে বাজারে জায়গা করে নিতে পারে। সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে নতুন পণ্য তৈরির পাশাপাশি এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রসার ঘটানোরও সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বাঁশপাতার চায়ের পুষ্টিগুণ, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের উপযোগিতা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। নিরাপদ প্রক্রিয়ায় পাতা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজারজাতকরণের বিষয়গুলোও উদ্যোগটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন এবং এক লাখ টাকার তহবিল পাওয়ার সুযোগকে নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন মাহিদ ও আজিজ। তাঁদের প্রত্যাশা, যথাযথ গবেষণা, পরিকল্পনা ও মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাঁশপাতার মতো প্রাকৃতিক উপাদান কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন ধরনের পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।
সানা/আপ্র/২৯/১০/২০২৬