প্রাইজবন্ড অনেকের কাছে লটারির মতো মনে হলেও এটি আসলে একটি নিরাপদ সঞ্চয়মাধ্যম। এখানে মূলধন হারানোর কোনো ঝুঁকি নেই—কারণ এটি সরকারের কাছে জনগণের এক ধরনের ঋণ, যা চাইলে যেকোনো সময় ফেরত পাওয়া যায়।
লটারি নয়, কেন ভিন্ন প্রাইজবন্ড
লটারিতে একবার ড্র শেষ হলে টিকিটের আর কোনো মূল্য থাকে না। কিন্তু প্রাইজবন্ডে একবার ড্র হয়ে গেলেও সেটির কার্যকারিতা শেষ হয় না। একই বন্ড পরবর্তী সব ড্রতে অংশ নিতে পারে। ফলে একবার কিনেই দীর্ঘদিন পুরস্কার জয়ের সুযোগ পাওয়া যায়।
এছাড়া প্রাইজবন্ডের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই। এটি আজীবন বৈধ থাকে এবং প্রয়োজন হলে যে কোনো সময় নগদায়ন করা যায়। ফলে বিনিয়োগকারীর মূল অর্থ সবসময় নিরাপদ থাকে।
সুদ নেই, তবে আছে পুরস্কারের সুযোগ
প্রাইজবন্ডে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ নেই। তবে বছরে চারবার ড্র অনুষ্ঠিত হয়—৩১ জানুয়ারি, ৩০ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩১ অক্টোবর। নির্ধারিত দিনে ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে ড্র হয়।
পুরস্কার জিতলে তা ২ বছরের মধ্যে দাবি করতে হয়, না করলে তা বাতিল হয়ে যায়।
কেন প্রাইজবন্ড কিনবেন
প্রাইজবন্ড জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে—
* মূলধন হারানোর ঝুঁকি নেই
* একই বন্ড দিয়ে বারবার ড্রতে অংশ নেওয়া যায়
* যেকোনো সময় ভাঙানো সম্ভব
* উপহার হিসেবে ব্যবহারযোগ্য
* এটি সরকারের সরাসরি দায়
কোথা থেকে কিনবেন
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর কার্যালয়, তফসিলি ব্যাংক (শরিয়াহভিত্তিক ছাড়া), সঞ্চয় ব্যুরো অফিস ও ডাকঘর থেকে সহজেই প্রাইজবন্ড কেনা ও ভাঙানো যায়। কোনো জটিল প্রক্রিয়া ছাড়াই নগদ অর্থ দিয়ে এটি কেনা সম্ভব।
পুরস্কার দাবি করার নিয়ম
পুরস্কার জিতলে নির্ধারিত পিবি-২৩ ফরম পূরণ করে মূল বন্ডসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অফিসে জমা দিতে হয়। সাধারণত ২ মাসের মধ্যে পুরস্কারের টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা হয়।
কর সংক্রান্ত বিষয়
বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের ওপর ২০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়।
সারসংক্ষেপ
প্রাইজবন্ড এমন একটি বিনিয়োগ যেখানে ঝুঁকি কম, মূলধন নিরাপদ এবং ভাগ্য সহায় হলে বড় অঙ্কের পুরস্কার জয়ের সুযোগ রয়েছে। তাই যারা নিরাপদ সঞ্চয়ের পাশাপাশি কিছুটা ‘লটারির মতো’ সম্ভাবনা রাখতে চান, তাদের জন্য প্রাইজবন্ড একটি কার্যকর বিকল্প।
এসি/আপ্র/০২/০৫/২০২৬