এস এ খান শিল্টু: সংশ্লিষ্ট সদস্যদের স্বাক্ষর ও অনুমোদন ছাড়া কথিত প্রকল্পের বিল ছাড় না দেওয়ায় মেহেরপুরের আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম এবং তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করতে গেলে ফয়সাল নামে এক যুবকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগও করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবুল কাসেম এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য বনি খাতুনের নামে দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই দুই সদস্যকে বাদ দিয়ে প্রকল্পের কাজ করেন সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। পরে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের বিল উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে রোববার সকালে সাইফুল ইসলাম, তার ভাই শফিকুল ইসলামসহ ১০-১২ জনের একটি দল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্যানেল চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের কাছে বিল ছাড়ের দাবি করেন। সিরাজুল ইসলাম বিল দিতে অস্বীকৃতি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মেহেরপুর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সিরাজুল ইসলামকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
আহত সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি বর্তমানে আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দাবি, সদস্যদের অনুমোদন ছাড়া কোনো বিল দেওয়া আইনসম্মত নয়।
তিনি বলেন, ‘অন্য সদস্যদের নামে প্রকল্প হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাদ দিয়ে নিজে কাজ করে আবার আমাকে বিল দিতে বলা হয়েছে। আমি বলেছি, মেম্বারদের অনুমোদন ও সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া এ ধরনের বিল করা সম্ভব নয়। এ কথা বলার পর পরিষদের সচিব, নিরাপত্তাকর্মীসহ সবার সামনে আমাকে মারধর করা হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমঝুপি ইউনিয়ন পরিষদের ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।’
তবে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আহত প্যানেল চেয়ারম্যানকে থানায় মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ সত্য হলে এটি ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়ে।’
সানা/আপ্র/৩/৮/২০২৬