অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য পেয়েছে বাংলাদেশ। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেলেও সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্তর দৃঢ় জুটিতে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। তবে দুজনের বিদায়ে চাপে পড়ে দল।
এর আগে বৃষ্টির কারণে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে থামে। দলটির হয়ে মার্নাস লাবুশেন অপরাজিত ৫৫ এবং জেভিয়ার বার্টলেট ৫২ রান করেন। শূন্য রানে তিন উইকেট হারানোর পর এই দুই ব্যাটারের শতরানের জুটিতেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় সফরকারীরা।
বাংলাদেশের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। দুটি উইকেট শিকার করেন তানভির ইসলাম।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ঘটনাবহুল প্রথম ওভার পার করে বাংলাদেশ। জেভিয়ার বার্টলেটের করা ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে বিদায় নেন তানজিদ হাসান। একই ওভারে নাজমুল হোসেন শান্ত দুটি জীবন পান। একবার এলবিডব্লিউর আবেদন থেকে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান, আরেকবার ক্যাচের সুযোগ হাতছাড়া করে অস্ট্রেলিয়া।
শুরুর ধাক্কা সামলে ইনিংস গড়েন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুই বাঁহাতির ব্যাটে ৪৮ বলে আসে জুটির পঞ্চাশ রান। সাবলীল ব্যাটিংয়ে দুজনই রান তোলার গতি ধরে রাখেন। নবম ওভারে শান্তকে দুবার জীবন দেন মার্নাস লাবুশেন। শর্ট মিডউইকেটে দুটি কঠিন সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে ৯৩ বলে ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন সৌম্য ও শান্ত। তবে বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগিয়েও অহেতুক ঝুঁকি নিয়ে আউট হন সৌম্য। অফ স্পিনার ম্যাট রেনশর বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ৪৭ বলে দুই ছক্কা ও পাঁচ চারে ৪২ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
সৌম্যর বিদায়ের পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শান্তও। রাইলি মেরেডিথের বলে ব্যাটের কানায় লেগে বল জমা পড়ে উইকেটরক্ষক জস ইংলিসের হাতে। আম্পায়ার প্রথমে আবেদন নাকচ করলেও রিভিউ নিয়ে শান্তর উইকেট নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
সৌম্য ও শান্তর বিদায়ে বাংলাদেশের ভালো শুরুর ভিত কিছুটা নড়ে গেলেও ক্রিজে ছিলেন লিটন দাস। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের আশা টিকে ছিল তার ব্যাটের দিকেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া: ৪২ ওভারে ১৮৭/৮ (মার্নাস লাবুশেন ৫৫*, জেভিয়ার বার্টলেট ৫২, জস ইংলিস ৩৪, ক্যামেরন গ্রিন ২৫; তাসকিন আহমেদ ৩/৩৩, মুস্তাফিজুর রহমান ৩/২৭, তানভির ইসলাম ২/৪৫)
লক্ষ্য: ৪১ ওভারে ১৯২ রান।
শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের হাতছানি নিয়ে মাঠে নেমেই দারুণ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শুরুতেই স্বাগতিক পেসারদের তোপে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা।
মাত্র দুই ওভারেই কোনো রান তুলতে না পেরে তিন উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় ওভারে এসে তাসকিন আহমেদের নো বলে প্রথম রান পায় তারা।
ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন তাসকিন। অফ স্টাম্পের বাইরে করা তার দারুণ এক ডেলিভারি ছেড়ে দেন ম্যাথু শর্ট। কিন্তু বল ভেতরে ঢুকে স্টাম্প ভেঙে দেয়। চার বল খেলে শূন্য রানে বিদায় নেন এই ওপেনার। আগের ম্যাচেও ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিনের শিকার হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হলেন শর্ট। প্রথম ওভারটি মেডেনও নেন বাংলাদেশের এই পেসার।
দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম বলেই সাফল্য পান মোস্তাফিজুর রহমান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কুপার কনোলি। এরপর ম্যাট রেনশও উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন। মাঠের আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও বাংলাদেশের রিভিউয়ের পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ফলে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই তিন উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিস। প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের পরাজয়ের পর এবার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনেন তিনি।
বাংলাদেশ এই ম্যাচে একটি পরিবর্তন আনে। ওপেনিংয়ে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হওয়া সাইফ হাসানের জায়গায় দলে ফেরেন অভিজ্ঞ সৌম্য সরকার। এতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পেস বোলিংয়েও একটি অতিরিক্ত বিকল্প পেয়েছে স্বাগতিকরা। ৩৩ বছর বয়সী সৌম্য সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন গত এপ্রিলে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর পেস আক্রমণ আরও শক্তিশালী করতে রাইলি মেরেডিথকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করে অস্ট্রেলিয়া। ২০২১ সালের পর এই পেসার প্রথমবারের মতো ওয়ানডে খেলতে নামেন।
২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া বাংলাদেশ এখন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে কেবল অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এখনো ওয়ানডে সিরিজ জেতা হয়নি বাংলাদেশের। সিরিজের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জিততে পারলে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত করবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
সানা/আপ্র/১১/৬/২০২৬