তারেক মাহমুদ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে এক ইতালি প্রবাসীর পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। হামলায় প্রবাসীর স্ত্রী ও তার চার মেয়েসহ ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘর থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে জেলা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইতালি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের বড় মেয়ে জুবাইদা গুলশান আরা মিলি লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন। এর আগে বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়। আহতরা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগম চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর এলাকার ইতালি প্রবাসী জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। অভিযুক্ত জহির উদ্দিন মাহমুদ তাদের প্রতিবেশী এবং জকসিন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শাহনাজ বেগম, তার মেয়ে কলেজছাত্রী জুবাইদা গুলশান আরা মিলি, সুমাইয়া আক্তার, স্কুলছাত্রী ইশরাত জাহান ইকরা মোল্লা, শিশু শিক্ষার্থী রাবেয়া মিথি, বোন আকলিমা বেগম, ভাগনি জান্নাতুল ফেরদাউস এবং বোনজামাই কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জুবাইদা গুলশান আরা মিলি বলেন, জহির উদ্দিন মাহমুদ তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় ভবন নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে জহির ও তার ভাগনে জোনায়েদ বাধা দেন। এর প্রতিবাদ করলে জহিরের নেতৃত্বে কয়েক দফায় হামলা চালানো হয়। হামলার সময় তাদের বাড়িতে থাকা অতিথিদেরও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে ঘর থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
শাহনাজ বেগম বলেন, কয়েক দফা হামলার ঘটনায় তিনি চার মেয়েকে নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন। হামলাকারীরা যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জহির উদ্দিন মাহমুদ। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। সীমানা অতিক্রম করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করলে তার ভাগনে কাজে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে তাদের পক্ষের একজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/৪/৬/২০২৬