বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার বুকার প্রাইজের ২০২৬ সালের দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের ১৩টি বইয়ের মধ্যে জায়গা পেয়েছেন আগের দুই বিজয়ী ডগলাস স্টুয়ার্ট ও মার্লন জেমস। তাদের সঙ্গে রয়েছেন তিনবারের মনোনয়নপ্রাপ্ত এলিজাবেথ স্ট্রাউট।
এ বছর মোট ১৬৩টি ইংরেজি ভাষার বই থেকে ১৩টি উপন্যাস দীর্ঘতালিকায় স্থান পেয়েছে। নির্বাচিত লেখকেরা সাতটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন প্রথমবারের মতো বুকারের দীর্ঘতালিকায় উঠেছেন। প্রথম উপন্যাস দিয়েই বুকারের দীর্ঘতালিকায় জায়গা পেয়েছেন কেনান অরহান, রেবেকা পেরি ও জামেল হোয়াইট।
২০২০ সালে ‘শাগি বেইন’-এর জন্য বুকারজয়ী ডগলাস স্টুয়ার্ট এবার মনোনয়ন পেয়েছেন তার তৃতীয় উপন্যাস ‘জন অব জন’–এর জন্য। অন্যদিকে ২০১৫ সালের বুকারজয়ী মার্লন জেমস তার ‘দ্য ডিসঅ্যাপিয়ারার্স’ উপন্যাস নিয়ে দীর্ঘতালিকায় জায়গা পেয়েছেন। ১৯৮০-এর দশকের জ্যামাইকায় সমকামীবিদ্বেষী সহিংসতার প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাস। তাদের মধ্যে কেউ পুরস্কার জিতলে বুকারের ইতিহাসে পঞ্চমবারের মতো কোনো লেখক দ্বিতীয়বার এই সম্মান অর্জন করবেন।
তৃতীয়বারের মতো বুকারের মনোনয়ন পাওয়া এলিজাবেথ স্ট্রাউটের ‘দ্য থিংস উই নেভার সে’ সমকালীন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে লেখা। অন্যদিকে মেক্সিকান-ব্রিটিশ ক্লোই আরিদজিস এবং তুর্কি-আমেরিকান কেনান অরহান জিতলে নিজ নিজ ঐতিহ্যের প্রথম বুকারজয়ী লেখক হওয়ার ইতিহাস গড়বেন।
এবারের দীর্ঘ তালিকায় সবচেয়ে প্রবীণ লেখক ৮১ বছর বয়সী এম. জন হ্যারিসন। তিনি বিজয়ী হলে বুকারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে পুরস্কারজয়ী লেখক হবেন। অপরদিকে সবচেয়ে কম বয়সী লেখক ২৮ বছর বয়সী আইরিশ ঔপন্যাসিক জামেল হোয়াইট।
২০২৬ সালের বুকার বিচারক প্যানেলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইতিহাসবিদ ও লেখক মেরি বিয়ার্ড। তার সঙ্গে বিচারকের দায়িত্বে আছেন সংগীতশিল্পী জারভিস ককার, লেখক রেমন্ড অ্যান্ট্রোবাস, ঔপন্যাসিক প্যাট্রিশিয়া লকউড এবং সাংবাদিক রেবেকা লিউ। মেরি বিয়ার্ড বলেন, দীর্ঘতালিকার প্রতিটি বই পাঠককে পরিচিত পৃথিবীকে নতুন দৃষ্টিতে দেখতে শেখায়।
২২ সেপ্টেম্বর লন্ডনের সাউথব্যাঙ্ক সেন্টারে সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা করা হবে। বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে ৯ নভেম্বর।
মনোনীত ১৩টি বই ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান: ১. ক্লোই আরিদজিসের ‘দ্য শ্যাডো অব দ্য অবজেক্ট’ (চ্যাটো অ্যান্ড উইন্ডাস)। ২. এমা ক্লাইনের ‘সুইটজি’ (চ্যাটো অ্যান্ড উইন্ডাস)। ৩. মাকেনা গুডম্যানের ‘হেলেন অব নোহোয়ার’ (ফিটজকারাল্ডো এডিশনস)। ৪. এম. জন হ্যারিসনের ‘দ্য এন্ড অব এভরিথিং’ (সার্পেন্টস টেল)। ৫. মার্লন জেমসের ‘দ্য ডিসঅ্যাপিয়ারার্স’ (হ্যামিশ হ্যামিল্টন)। ৬. লুক কেনার্ডের ‘ব্ল্যাক ব্যাগ’ (জন মারি)। ৭. কেনান অরহানের ‘দ্য রেনোভেশন’ (হ্যামিশ হ্যামিল্টন)। ৮. রেবেকা পেরির ‘মে উই ফিড দ্য কিং’ (গ্রান্টা)। ৯. গুয়েনডোলিন রাইলির ‘দ্য পাম হাউস’ (পিকাডর)। ১০. এলিজাবেথ স্ট্রাউটের ‘দ্য থিংস উই নেভার সে’ (ভাইকিং)। ১১. ডগলাস স্টুয়ার্টের ‘জন অব জন’ (পিকাডর)। ১২. জামেল হোয়াইটের ‘অল দেম ডগস’ (জন মারি)। ১৩. মিজৌরি উইলিয়ামসের ‘দ্য ভিভিসেক্টর্স’ (ফোর্থ এস্টেট)।
কেএমএএ/আপ্র/৩১.০৭.২০২৬