শ্রাবণী
রাজীব কুমার দাস
শ্রাবণ মেঘের জোয়ার আকাশে দিয়েছে পাড়ি
প্রকৃতি মেতেছে শ্রাবণী সাজে
কত সুখ বাসনায় রাগে-অনুরাগে
ব্যস্ত জনপদে ব্যস্ত মানব ছুটেছে তাড়াতাড়ি,
শ্রাবণ মেঘের জোয়ার আকাশে দিয়েছে পাড়ি।
দূর পরবাসী মেঘেরা সারি সারি
নীলিমার মাঝে জমেছে চুপিসারি,
বইছে পবন কইছে গুঞ্জনে
ওহে এসো এসো মোর সনে,
মনজোয়ারে দুলবো সাথী ভাসিয়ে সুখ তরী।
মাঝিমাল্লার ভাটিয়ালি সুর
শুভ্র বলাকা উড়ছে সুদূর
ব্যাঙের সুরে চিত্ত তন্ময়ে
আজ নাচছে শর্বরী।
নীলিমার নীল ফেরারি আজ
সবুজের সমারোহে প্রকৃতির সাজ
বন্দি খাঁচায় মন পাপিয়ায় মুক্তির আহাজারি
শ্রাবণ মেঘের জোয়ার আকাশে দিয়েছে পাড়ি।
বিপুল চন্দ্র রায়ের দুটি কবিতা
বরষার গান
ঝুমঝুম নূপুরেতে নামলো শ্রাবণ,
বরষার গীতি গেয়ে মাতে এ ভুবন।
মেঘেদের জলছবি আকাশের গায়,
কদম ও কেয়া হাসে সবুজ পাতায়।
নদী-নালা খাল-বিল জলে থৈ থৈ,
ব্যাঙ ডাকে ঘ্যাঙ ঘ্যাং, আনন্দের খৈ।
টুপটাপ জলবিন্দু ছুঁয়ে যায় মন,
থইথই জলরাশি জাগায় শিহরন।
বর্ষাকে ভালোবেসেছি
আষাঢ়ের মেঘ-গর্জনের এই ক্রূর ক্ষণে,
ঝঞ্ঝা নামিছে শুধু শূন্য এ চিত্তমনে।
নিলীন পাণ্ডুর মেঘে সৌদামিনী হাসে,
স্মৃতির কপোত উড়ে ধূসর আকাশে।
প্রলয়পয়োধি-সম নামিছে শ্রাবণ,
প্লাবিত করিল আজি এ হৃৎ-প্রাঙ্গণ।
নিমজ্জিত আশা-বীজ, বিনষ্ট অঙ্কুর,
বাজিছে রোদন-ধ্বনি অতি সুকরুণ।
উদ্বেলিত নদীসম ক্ষুব্ধ এ পরাণ,
গাহিছে তিমির-রাত্রে বিচ্ছেদের গান।
প্লাবনের স্রোতে ভাসে অনুভূতির কূল,
নিমেষেই ঝরে পড়ে যূথী-মালতী ফুল।
হে মেঘ, হে রুদ্র ঝড়, লহ তবে বুকে,
প্লাবনের স্রোতে মোর দুখ যাক ধুয়ে মুছে।
শান্ত হোক এ পরাণ শ্রাবণের শেষে,
তবুও এ বর্ষা-তিথি রাখিব যে ভালোবেসে।
উল-কাঁটা
শুক্লা গাঙ্গুলি
উলের কাঁটায় ঘর তুলি-
সাথে দশ বা এগারো নম্বর
সরুমতো, আগলে রাখি হাতে
রাত বাড়ে ঘর ওঠে মন জমে-
সাইজ ডিজাইন সবই নির্ভর করে
চেষ্টা আর ভালোবাসায়-
উল্টো দুই সোজা চার একটু ঘুরিয়ে এনে,
সামনে টেনে উল্টে-পাল্টে-
পরের কাঁটায় সবই উল্টো
যেন উল্টো না হলে জীবনের মেলে না গৎ
উল জড়িয়ে দুইধারা-
সোজা বা অ-সোজা, ভিন্নতা
হাত দুটো উষ্ণতায় দিশেহারা-
রঙের গভীরে চোখ ঢলঢলে বা আঁটোসাঁটো
সুনির্দিষ্ট একটা ছকে ফেলে
প্রতীক্ষিত শেষের প্রহর গোনা!
কতশত কথা রাজনীতি থেকে অর্থনীতি
ইংলিশ কালো চা থেকে
ক্যালিফোর্নিয়ার জঙ্গলে ফি বছর
আগুন আবিশ্বের কঠিন দুঃসময়-
তবুও সোজা উল্টো ঘর তোলা ঘর ফেলা
মেপে এগিয়ে চলা-
একের ভেতরে আর একটি সমন্বয়ে
দুটি ঘর বন্ধ, এক-য়ে!
মনোযোগে আড়াল করে রাখা সুখানুভূতি
উল-কাঁটায় সন্তর্পণে-
জিবিএম রুবেল আহম্মেদের গুচ্ছকবিতা
নীরব ক্ষরণ
জীবন নামক অদৃশ্য অবয়বে
একটা ঘুণপোকা বাসা বেঁধেছে
প্রতিনিয়ত সেই অশান্ত ঘুণ
কুরে কুরে খাচ্ছে ভেতর।
শোক তারা
দূর আকাশে দেখি অগণিত তারা
জ্বলছে মিটিমিটি
তাদের মাঝে একা ছুটছো তুমি
চাঁদকে ছোঁবে বলে।
লক্ষ কোটি ভিড়ে
বলো- কোথায় তোমায় খুঁজবো আমি?
বিপরীত অনুভব
একই আকাশ
অথচ-
একদিকে বিষণ্নতা
আরেক দিকে উল্লাস
আকাশের রং
এক আকাশের কত রং
ক্ষণে ক্ষণে বদলায় রূপ–
কখনো ধূসর, সাদা, নীল
কখনো রংধনুর মতো রঙিন
আবার কখনো বিষণ্নতায়
জমে থাকা একগুচ্ছ মেঘ।
কেএমএএ/আপ্র/১৭.০৭.২০২৬