গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

কিশোরীদের পায়ে ফুটবলই বদলাচ্ছে পালিচড়া গ্রামের পরিচয়

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:০৩ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৬ এএম ২০২৬
কিশোরীদের পায়ে ফুটবলই বদলাচ্ছে পালিচড়া গ্রামের পরিচয়
ছবি

ছবি সংগৃহীত

রংপুর শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ছোট্ট এক গ্রাম- পালিচড়া। এক সময় দেশের মানচিত্রে আর দশটি গ্রামের মতোই ছিল এর অবস্থান। এখন ওই পরিচয় বদলে গেছে। গ্রামের মেয়েদের পায়ে ফুটবল উঠেছে। আর ওই ফুটবলই পালিচড়াকে পরিচিত করেছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে।

প্রায় দেড় দশক ধরে বয়সভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে এই গ্রামের কিশোরী ও তরুণীরা। কেউ খেলছে জাতীয় দলে, কেউ ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে। কেউ আবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরি পেয়েছে ফুটবলের সুবাদে। ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাফল্যের গল্পেও রয়েছে পালিচড়ার মেয়েদের নাম। পালিচড়ার এই ফুটবলযাত্রা অবশ্য হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। ২০১১ সালে জাতীয় পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেয়েদের দল রানারআপ হয়। পরের বছরই আসে আরও বড় সাফল্য- জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন। ওই জয় যেন গ্রামটির মেয়েদের জন্য নতুন একটি দরজা খুলে দেয়। এরপর ধীরে ধীরে ফুটবল হয়ে ওঠে পালিচড়ার মেয়েদের স্বপ্ন দেখার ভাষা। ২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ প্রতিযোগিতায় ভারতের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয় নিয়ে বাংলাদেশ শিরোপা জেতে। সেই দলের তিন খেলোয়াড়- লাবনী আক্তার, আর্শিতা জাহান ও আঁখি আক্তার—ছিলেন পালিচড়ারই মেয়ে। ২০২২ সালে সাফজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন এই গ্রামের সিরাত জাহান।

একটি স্টেডিয়াম, অনেক স্বপ্ন: মেয়েদের ফুটবলের ওই সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে ২০২২ সালে পালিচড়া গ্রামে তৈরি করা হয় একটি স্টেডিয়াম। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে প্রায় পৌনে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠের জায়গায় গড়ে ওঠে এটি। পালিচড়া এম এন উচ্চবিদ্যালয় ও মজিদা খাতুন কলেজের পাশে নির্মিত এই স্টেডিয়াম এখন রংপুরের প্রত্যন্ত এলাকার মেয়েদের ফুটবলচর্চার অন্যতম কেন্দ্র।

সাফল্যের পাশে সংকট: স্টেডিয়ামে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও নেই রান্নাঘর। থাকার জায়গা আছে প্রায় ৫০ জনেরঅ অথচ বেড রয়েছে মাত্র ২০টি। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো স্টেডিয়াম অন্ধকার হয়ে যায়। বিকল্প আলোর ব্যবস্থাও নেই। দিনভর অনুশীলনের পর গরমের রাতে লোডশেডিংয়ে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে কিশোরীদের। অনুশীলন শেষে গোসলের পানিও সব সময় স্বস্তিদায়ক নয়। গরমে ট্যাংকের পানি অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যায়, আবার শীতকালে নেই গরম পানির ব্যবস্থা।

নিজের ঘরের রান্নায় বেড়ে ওঠে ফুটবলার: পালিচড়ার মেয়েদের প্রশিক্ষক সাবেক ফুটবলার মিলন মিয়া। শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়াই নয়, আবাসিক কিশোরীদের থাকার-খাওয়ার বিষয়টিও নিজের দায়িত্বে সামলাচ্ছেন তিনি। স্টেডিয়ামে রান্নাঘর না থাকায় তার বাড়িতেই রান্না হয় প্রশিক্ষণরত মেয়েদের খাবার। তাদের খাবারের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। এমনকি প্রশিক্ষক মিলন মিয়াও কোনো সরকারি বেতন পান না। তারপরও মেয়েদের নিয়ে তার স্বপ্ন বড়। বর্তমানে পালিচড়া স্টেডিয়াম থেকে অন্তত ১৫ জন খেলোয়াড় ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন। আর্মি স্পোর্টস ক্লাবে রয়েছেন জয়নব বিবি, সুলতানা আক্তার, বৃষ্টি আখতার, নাসরিন বেগম ও কাকলি সরেন। আইএম ১০ এফসিতে খেলছেন শীলা আক্তার। ঢাকা ওয়ারিয়র্সে খেলছেন ইন্নিমা খানম ও হৈমন্তী শুক্লা খালকো। ক্লাব ফুটবলে খেলে তারা মৌসুমে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা সম্মানীও পান।

পর পর দুই শিরোপায় পালিচড়ার আট মুখ: সাম্প্রতিক সময়েও পালিচড়ার মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। গত জুলাইয়ে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে মেয়েদের ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর অঞ্চল। এর পর আগস্টে জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বা জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল টুর্নামেন্টেও শিরোপা জেতে রংপুর জেলার কিশোরীরা। এ দুই শিরোপাজয়ী দলের প্রথম একাদশে থাকা আটজন খেলোয়াড়ই পালিচড়ার। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মেয়েদের ফুটবলে ‘ফাইনাল-সেরা’ হয়েছে পালিচড়া স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ নেওয়া স্মৃতি কিসকু।

স্বপ্ন থামাতে চায় না পালিচড়া: রংপুরের সাবেক কৃতী ফুটবলার নিয়ামুল আতিকুর রহমান মনে করেন, পালিচড়ার মেয়েরা শুধু জাতীয় পর্যায়েই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে তারা আরও অনেক দূর যেতে পারবে। প্রশিক্ষক মিলন মিয়ার চাওয়াটাও খুব বেশি নয়; খেলোয়াড়দের জন্য একটি জিমনেসিয়াম, পুষ্টিকর খাবার, উন্নত প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম এবং ভালো মানের মাঠ।

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ঢাকায় নেই নিরাপদ, ভয় ও অস্বস্তি ছাড়াই নারীবান্ধব টয়লেট
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকায় নেই নিরাপদ, ভয় ও অস্বস্তি ছাড়াই নারীবান্ধব টয়লেট

ঢাকার রাস্তায় প্রতিদিন লাখ লাখ নারী বের হন। কেউ অফিসে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসক...

ডিজিটাল ডিভাইসে শিশু হারাচ্ছে সামাজিক বিকাশ ও চঞ্চলতা
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিজিটাল ডিভাইসে শিশু হারাচ্ছে সামাজিক বিকাশ ও চঞ্চলতা

শিশুর হাতে ডিজিটাল ডিভাইস এখন আর কোনো বিরল দৃশ্য নয়। দুই বছরের শিশুটির কান্নাকাটি থামানো কিংবা নিজের...

উপকূলে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তরুণীদের নেই জীবিকার বিশ্রাম
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপকূলে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তরুণীদের নেই জীবিকার বিশ্রাম

সুন্দরবন উপকূলের সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার দাকোপ-কয়রা কিংবা বাগেরহাটের মোংলায় অনেক অন্তঃসত্ত্বা না...

বুয়েটের ইতিহাসে বাঁকবদলের মাইলফলক অধ্যাপক খালেদা
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুয়েটের ইতিহাসে বাঁকবদলের মাইলফলক অধ্যাপক খালেদা

বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। জ্...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই