আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা লেগস্পিনার রশিদ খান। বল হাতে তার সাফল্যের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও নিজেকে কার্যকর করে তুলেছেন আফগানিস্তানের এই তারকা। ব্যক্তিগত অর্জনের ঝুলিতে অসংখ্য রেকর্ড ও সাফল্য থাকলেও আফগানিস্তানের হয়ে বড় কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা এখনো জেতা হয়নি তার।
ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বর্তমানে নয়াদিল্লিতে আছেন রশিদ।
সেখানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। আলোচনায় এসেছে ১৫ বছর বয়সী ভারতীয় ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে তার দ্বৈরথ, আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগ এবং এশিয়ান গেমসও।
এশিয়ান গেমসে আফগানিস্তানের তরুণ দল অংশ নিলেও রশিদ নিজে যাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপের কথাই জানিয়েছেন তিনি। রশিদ বলেন, ‘আমি এশিয়ান গেমসের অংশ হতে চেয়েছিলাম। সবসময়ই সেখানে খেলতে চেয়েছি। কিন্তু এখনো দেশের হয়ে এশিয়ান গেমসে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ হয়নি।’
তরুণ আফগান দলকে শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি। রশিদের মতে, দলটিতে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছেন এবং অতীতেও তারা ভালো করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি সম্প্রতি অন্য একজনের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলাম, এশিয়ান গেমসে গিয়ে দেশের হয়ে পদক জিততে এবং বিশেষ কিছু করতে কতটা চেয়েছিলাম।
হয়তো এবার সেটা আমার ভাগ্যে ছিল না।’ তরুণ দলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে রশিদ আরও বলেন, ‘আমি দলের জন্য শুভকামনা জানাই। আশা করি, তারা দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনবে এবং আমরা আরও কিছু তরুণ প্রতিভাকে জাতীয় দলে উঠে আসতে দেখব।’
আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেছেন রশিদ। তার মতে, বড় দলের বিপক্ষে চাপের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা দিতে না পারাই আফগানিস্তানের বড় সমস্যা। প্রতিভা বা দক্ষতার ঘাটতি নেই, বরং চাপের মধ্যে করা ভুলই তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।
আধুনিক ক্রিকেটের পাওয়ার হিটারদের বিপক্ষে নিজের বোলিং নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। রশিদের মতে, প্রতিপক্ষ ব্যাটারের শক্তির জায়গা এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা করতে হয়। একই সঙ্গে লাইন-লেংথে ধারাবাহিক থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীর বিপক্ষে লড়াই নিয়েও কথা বলেছেন রশিদ। তার মতে, এত কম বয়সে বড় দল ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে যেভাবে সূর্যবংশী ছক্কা মারছেন, সেটি বিশেষ প্রতিভার পরিচয়। রশিদ বলেন, ‘তার পাওয়ার খুবই বিশেষ।
তার বয়সে বড় দল ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে এভাবে ছক্কা মারা সহজ নয়। রান করার ক্ষেত্রে তার সবসময়ই দারুণ আগ্রহ দেখা যায় এবং তার মতো খেলোয়াড়কে থামানো কঠিন।’ আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট মাঠে ফেরার বিষয়েও নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন রশিদ। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসির বলে মনে করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানের দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সম্পর্ক স্থগিত থাকার কারণে বিগ ব্যাশ লিগে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে রশিদকে। তিনি জানিয়েছেন, বিগ ব্যাশে খেলার কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছেন। তবে বোর্ডের নির্দেশই এ ক্ষেত্রে তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিগ ব্যাশে ৯৮ উইকেট নেওয়া রশিদ আরও দুই উইকেট থেকে শততম উইকেটের অপেক্ষায়। অস্ট্রেলিয়াকে নিজের অন্যতম প্রিয় দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আবারও বিগ ব্যাশে ফিরতে চান। রশিদ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমাদের নিয়ম মেনে চলতে হয় এবং এটাই এখন আমার পরিস্থিতি।
আশা করি, দুই বোর্ড আলোচনা করে এই সমস্যার সমাধানের সঠিক পথ খুঁজে বের করবে। আমি আশা করি, শিগগিরই আবার বিগ ব্যাশে নিজেকে দেখতে পাব।’
ডিসি/আপ্র/১৬/০৯/২০২৬