বিতর্কিত ‘বিনিয়োগ পরিকল্পনা’ বাতিল করার পরও জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এবার সেই প্রস্তাব নিয়ে ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। এসবের শুরু গত মঙ্গলবার। সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনার কথা জানায় ফিফা।
তাদের ভাবনা ছিল, বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার জন্য একটি নতুন সংস্থার প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ করা। ওই সংস্থার নাম দেওয়া হয়েছিল ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)। ফিফা এই প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে।
উয়েফা, উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা (কনক্যাকাফ) ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
উয়েফা তো বিশ্বকাপসহ ফিফার সব আসর বর্জনের হুমকিও দেয়। চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত চার দিনের মাথায় গত শুক্রবার সেটা বাতিল করার ঘোষণা দেন ইনফান্তিনো। শেষ পর্যন্ত ‘নিজের পরিকল্পনা’ থেকে ফিফা প্রধান সরে এলেও, তার প্রতি আস্থা হারানোর কথা শনিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে উয়েফা ও কনক্যাকাফ।
বিবিসির খবর, ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) ইনফান্তিনোকে দেওয়া আগের সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়ে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর সোমবার প্রথম দেশ হিসেবে ওয়েলস আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে, ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার প্রতি আর সমর্থন দিচ্ছে না তারা।
দা টেলিগ্রাফ তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ইনফান্তিনোকে লেখা চিঠিতে উয়েফা ‘ফিফার এফএফই পরিকল্পনার নিয়ে আইনি ব্যবস্থা, সালিশি প্রক্রিয়া কিংবা নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।’
উয়েফা চায়, ফিফা ও ইনফান্তিনোর কাছে থাকা এই পরিকল্পনাসংক্রান্ত সব নথি ও ইলেকট্রনিক তথ্য দ্রুত শনাক্ত, সংরক্ষণ ও নিরাপদে রাখা হোক।
ফিফার ২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে লেখা চিঠিতে ইনফান্তিনো বলেছিলেন, তাদের পরিকল্পনায় সমর্থন করা প্রতিটি সদস্য সংস্থাকে ৪ কোটি ডলার দেওয়া হবে।
প্রথম কিস্তির ২ কোটি ডলার পেতে হলে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমর্থন জানাতে হবে বলেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এফএফই-এর প্রস্তাবিত বিনিয়োগকারী দলের নেতৃত্বে ‘থ্রাইভ ইটারনাল’ থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। থ্রাইভ হলো একটি যুক্তরাষ্ট্রের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম, যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জশুয়া কুশনার- যিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারাড কুশনারের ভাই।
উয়েফা তাদের চিঠিতে এফএফই পরিকল্পনাসংক্রান্ত সব নথি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইমেইল, ইন্সট্যান্ট ম্যাসেজ (হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টিমস, স্ল্যাকসহ অন্যান্য মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের বার্তা), এসএমএস, লিখিত চিঠিপত্র এবং বৈঠকের নোট।
এ ছাড়া ফিফার কর্মকর্তা, কর্মচারী, কমিটির সদস্য, পরামর্শক বা এজেন্ট, সদস্য সংস্থা, কনফেডারেশন, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান, স্পন্সর বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হওয়া সব ধরনের যোগাযোগের নথিও সংরক্ষণের অনুরোধ জানিয়েছে উয়েফা।
১৯ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার প্রসঙ্গে উয়েফা আরও বলেছে, সদস্য সংস্থাগুলোর জন্য প্রস্তাবিত অর্থপ্রদানের কাঠামো, পরিকল্পনা, আর্থিক মডেল, আইনি ভিত্তি, অনুমোদন এবং সদস্যদের সঙ্গে হওয়া যোগাযোগসংক্রান্ত সব নথিও সংরক্ষণ করতে হবে। চিঠি পাওয়ার পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ইনফান্তিনোকে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলেছে উয়েফা।
সেখানে নিশ্চিত করতে হবে যে, তিনি এই নোটিশ পেয়েছেন, এর বিষয়বস্তু বুঝেছেন এবং প্রয়োজনীয় সব নথি সংরক্ষণের জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছেন। আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ইনফান্তিনোর ওপর অনাস্থা ভোটের উদ্যোগও নেওয়ার কথাও ভাবছে উয়েফা। যেটির জন্য ফিফার ৪৩টি সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
ডিসি/আপ্র/০৩/০৮/২০২৬