গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মেনু

শ্রীলঙ্কার রানের জোয়ারে ভেসে গেল ওমান

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০৬ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০৮:০১ এএম ২০২৬
শ্রীলঙ্কার রানের জোয়ারে ভেসে গেল ওমান
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বকাপে বেশির ভাগ দলই টস জিতে আগে নামছে ফিল্ডিংয়ে। ওমানও বেছে নিল সেই পথ। তবে টস হেরেও দাসুন শানাকার মুখে দেখা গেল হাসি, “আগে ব্যাটিং পেয়ে আমরা খুশিই, বেশ ভালো পিচ মনে হচ্ছেৃ।” লঙ্কান অধিনায়কের সেই হাসি পরে প্রতিফলিত হলো দলের ব্যাটিংয়ে। 

পাল্লেকেলের ২২ গজে রান উৎসব করে ম্যাচ জিতে নিলেন তারা সহজেই। পাল্লেকেলেতে এবারের বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ এটি। স্থানীয় দর্শকদের জন্য বিনোদনের পসরা সাজিয়ে ওমানকে রানে ১০৫ রানে উড়িয়ে দিল শ্রীলঙ্কা। ১৯ বলের ফিফটিতে এ দিন নিজের রেকর্ড নতুন করে লিখে নেন শানাকা। তিনি ক্রিজে যাওয়ার আগে ২৮ বলে ৬০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে নিজের প্রতিভার ছাপ রাখেন নবীন ব্যাটসম্যান পাভান রাত্নায়েকে। 

এক প্রান্ত আগলে রেখে ফিফটি করেন অভিজ্ঞ কুসাল মেন্ডিস। সম্মিলিত অবদানে ২০ ওভারে শ্রীলঙ্কা তোলে ৫ উইকেটে ২২৫ রান, এবারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত যা সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ওমান ধুঁকতে ধুঁকতে যেতে পারে ১২০ রান পর্যন্ত।


বোলিংয়ে নেমে ওমানের শুরুটা খারাপ ছিল না। দ্বিতীয় ওভারে অফ স্পিনার জয় ওদেদ্রাকে স্লগ করে বোল্ড হয়ে যান কামিল মিশারা। কুসাল মেন্ডিস ক্রিজে গিয়েই চারটি বাউন্ডারি মেরে দেন দ্রুতই। তবে পাওয়ার প্লের মধ্যে আরেকটি উইকেট আদায় করে নেয় ওমান। এবার সুফিয়ান মেহমুদ বিদায় করেন পাথুম নিসাঙ্কাকে। পাভান রাত্নায়েকের ঝড়ের শুরু সেখান থেকেই। মাঠে নেমে প্রথম চার বলেই তিনটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। 

কুসাল মেন্ডিস তখন মন দেন উইকেট ধরে রাখায়। পাভানের ব্যাটে ছুটতে থাকে রানের ধারা। ৫২ বলে ৯৪ রানের জুটি গড়েন দুজন। ঘরোয়া ক্রিকেট রাঙিয়ে জাতীয় দলে আসা রাত্নায়েকে ফিফটি করে ফেলেন ২৪ বলেই। সপ্তম টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ফিফটি এটি ২৩ বছর বয়সী প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের। 

বাউন্ডারিতে পঞ্চাশ ছুঁয়ে পরের দুই বলকেও সীমানায় পাঠান তিনি। তবে পরের ওভারেই স্কুপ থেখে থেমে যায় তার পথচলা। বিদায় নেন ২৮ বলে ৬০ রান করে। তার জায়গায় ক্রিজে গিয়ে শানাকা একটু দেখেশুনে খেলেন কিছু সময়। সবশেষ তিন ইনিংসে তার মোট রান ছিল ছয়। টানা ১২ ইনিংসে ছিল না ফিফটি। 

কিছুটা চাপে তাই ছিলেন লঙ্কান অধিনায়ক।


তবে ১৬তম ওভারে জিতেন রামানান্দির দুটি ফুল টসে চার ও ছক্কা মেরে খোলস ছেড়ে বের হন তিনি। পরের দুই ওভারে চারটি ছক্কায় পৌঁছে যান পঞ্চাশের কাছে। পরে সিঙ্গল নিয়ে ফিফটি করেন ১৯ বলে। প্রথম ৭ বলে ৬ রান করা ব্যাটসম্যান পরের ১৩ বলে করেন ৪৪ রান। 

শ্রীলঙ্কার হয়ে টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড এটি। ২০২৩ সালে ভারতের বিপক্ষে ২০ বলে ফিফটি করে আগের রেকর্ডও ছিল তারই। ফিফটির পরই অবশ্য সীমানায় ধরা পড়েন শানাকা। আরেক প্রান্তে কুসাল মেন্ডিসের ফিফটি আসে ৩৯ বলে। 

আগের ম্যাচে অপরাজিত ৫৬ রান করা ব্যাটসম্যান এবার রান আউট হন ৪৫ বলে ৬১ রানে। পরে শেষ দুই বলে দুটি ছক্কায় ইনিংস শেষ করেন কামিন্দু মেন্ডিস (৭ বলে ১৯*)। শেষ ৫ ওভারে ৭৯ রান তোলে লঙ্কানরা। সেই রান তাড়ার শক্তি-সামর্থ্য ওমানের ছিল না। 

তাদের লড়াইয়ের আশাও শেষ হয়ে যায় শুরুর দিকেই। দুশমান্থা চামিরার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে প্রথম ওভারেই বোল্ড ওমান অধিনায়ক জাতিন্দার সিং। পরের ওভারে অভিজ্ঞ আমির কালিমকে ফেরান মাহিশ থিকশানা। পাওয়ার প্লের ভেতরই চামিরা ফেরান হাম্মাদ মির্জাকে।


চতুর্থ উইকেটে ৪২ রানের জুটি গড়েন মোহাম্মাদ নাদিম ও ওয়াসিম আলি। তিন ছক্কায় ২০ বলে ২৭ রান করে থিকাশানার শিকার হন ওয়াসিম। এরপর আর কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। পরের ৬ ব্যাটার মিলে রান করেন মোটে ৯! উইকেট পতনের সেই স্রোতে আরেকপ্রান্ত আগলে রেখে ৫৬ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন নাদিম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফিফটির রেকর্ড গড়েন ৪৩ বছর ১৬১ দিন বয়সী ব্যাটসম্যান।

 পেরিয়ে যান এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ কোচ সানাৎ জায়াসুরিয়ার রেকর্ড (৩৯ বছর ৩৪৫ দিন)। শ্রীলঙ্কার সব বোলারই কমবেশি ভালো করেন, ব্যতিক্রম কেবল দুশান হেমান্থা। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ছিটকে পড়ায় বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া এই লেগ স্পিনার ছিলেন খরুচে।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:


শ্রীলঙ্কা : ২০ ওভারে ২২৫/৫ (নিসাঙ্কা ১৩, মিশারা ৮, কুসাল মেন্ডিস ৬১, রাত্নায়েকে ৬০, শানাকা ৫০, কামিন্দু মেন্ডিস ১৯*, ওয়েলালাগে ৬*; ফায়সাল ৪-০-২৮-০, ওদেদ্রা ১-০-১৪-১, ওয়াসিম ৩-০-৩৩-০, সুফিয়ান ৪-০-৬০-১, নাদিম খান ৪-০-৪০-০, জিতেন ৪-০-৪১-২)।


ওমান: ২০ ওভারে ১২০/৯ (কালিম ৬, জিতেন্দার ১, হাম্মাদ ৯, মোহাম্মাদ নাদিম ৫৩*, ওয়াসিম ২৭, ভিয়ানায়ক ১, জিতেন ০, নাদিম খান ২, সুফিয়ান ১, ফায়সাল ১, ওদেদ্রা ৪*; চামিরা ২-০-১৯-২, থিকসানা ৪-০-১১-২, পাথিরানা ৩-০-১১-০, ওয়েলালাগে ৪-০-১৭-১, শানাকা ১-০-৬-০, হেমান্থা ৪-০-৪৫-১, কামিন্দু ২-০-১০-১)।


ফল: শ্রীলঙ্কা ১০৫ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: পাভান রাত্নায়েকে।

 

ডিসি/আপ্র/১২/০২/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

নেপালকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ইতালির ইতিহাস
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নেপালকে ১০ উইকেটে হারিয়ে ইতালির ইতিহাস

প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে ইতালি। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই নেপালকে...

পিএসএলের দামি ১০ ক্রিকেটারের তালিকায় মুস্তাফিজ
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

পিএসএলের দামি ১০ ক্রিকেটারের তালিকায় মুস্তাফিজ

আগামী ২৬ মার্চ থেকে মাঠে গড়াবে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এবারের আসর। তার আগে গত বুধবার (১১ ফেব্...

জীবনে প্রথম ভোট দিলাম, খুব ভালো লাগছে: তামিম ইকবাল
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জীবনে প্রথম ভোট দিলাম, খুব ভালো লাগছে: তামিম ইকবাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে জীবনের প্রথম ভোট দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকে...

দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানদের হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফগানদের হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা

মূল ম্যাচে শেষ ওভারে কাগিসো রাবাদার দুই নো, এক ওয়াইড বল। নুর আহমেদের ছক্কা। তারপরও জয়ের জন্য ১৩ রান...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্যাস সংকটের সুযোগে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছে, এর মধ্যেই সরকার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে। এটা কতটা যুক্তিসঙ্গত মনে করেন?

মোট ভোট: ৩ | শেষ আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে