মাঠের ফুটবলের চেয়ে সম্প্রতি মাঠের বাইরের ইস্যু নিয়েই বেশি আলোচনায় দেশের ফুটবল। বিশেষ করে জাতীয় দলের সবশেষ ইন্দোনেশিয়া সফরে দলের চেইন অব কমান্ড ভাঙা এবং খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে চলছে তুমুল সমালোচনা।
তবে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
শৃঙ্খলার প্রশ্নে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে শুরু হয়েছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আবাসিক ক্যাম্প। ক্যাম্পের প্রথম দিনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দল এবং খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ইস্যুতে বাফুফের কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জাতীয় দলের ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু।
ইন্দোনেশিয়া সফরে দলের সাথে ম্যানেজার, টিম লিডার ও ইভ্যালুয়েটরের মতো শীর্ষ কর্তারা থাকা সত্ত্বেও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা কীভাবে ঘটল এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যানেজার বাবু স্পষ্ট জানান, এ বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে এবং দোষীদের শাস্তি পেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইন্দোনেশিয়া থেকে আসার পরে ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির একটি মিটিং করা হয়েছে এবং ঐ মিটিংয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও আলাপ আলোচনা হয়েছে। যে ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো আমাদের প্রেসিডেন্ট (তাবিথ আউয়াল) নিজ হস্তে দমন করবেন।’
শাস্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন, ‘উনি (সভাপতি) ম্যানেজারের রিপোর্ট, কো-অর্ডিনেটরের রিপোর্ট এবং কোচের রিপোর্ট পেয়েছেন। তিনটা রিপোর্টকে উনি বিশ্লেষণ করবেন। বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে ভাইস প্রেসিডেন্টদেরকে নিয়ে উনি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আলাপ আলোচনা করে যদি কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে অবভিয়াসলি উনি নিজেই এই দায়িত্ব পালন করবেন (শাস্তি দেবেন)।’
সাফের আগে দলের নেতিবাচক ভাবমূর্তি দূর করতে ম্যানেজমেন্ট এবং কোচিং স্টাফ একাট্টা হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে আমিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘গত কয়েকদিন যাবত আমরা কোচিং স্টাফ, ডক্টর, ফিজিও এবং হোটেলের স্টাফদের সাথে মিটিং করেছি।
আমরা চুল পরিমাণ কাউকে কোনো ছাড় দিব না। জিরো টলারেন্স! আমাদের প্রেসিডেন্ট পরিষ্কার বলেছেন যে কেউ কোনো রকমের ইনডিসিপ্লিন হলে সে যেই হোক না কেন, তাকে কোনো রকমের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
শৃঙ্খলার কড়া বার্তার দিনেই শুরু হয়েছে সাফের প্রস্তুতি। প্রধান কোচ থমাস ডুলির ডাকা ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দলের ২১ জন দেশি ও ৭ জন প্রবাসী ফুটবলার রয়েছেন। ক্যাম্প শুরুর প্রথম দিনেই দেশি খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই রিপোর্ট করেছেন।
তবে দলের অন্যতম বড় তারকা হামজা চৌধুরী এবং আরেক প্রবাসী ফুটবলার ফারহান আলীকে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বাবু জানান, ‘হামজা চৌধুরী এবং ফারহান আলী একটু দেরিতে আসবে, হয়তো আট থেকে নয় তারিখে।
আমরা হয়তো তাদেরকে ফার্স্ট খেলাটায় (৫ তারিখ ভুটানের বিপক্ষে) নাও পেতে পারি। আশা করি ১১ তারিখে ম্যাচের আগে আমরা ফুল টিমটা পেয়ে যাব।’ ক্যাম্প শুরুর বিষয়ে ক্লাবগুলোকে দেরিতে চিঠি দেওয়ার অভিযোগও উড়িয়ে দেন ম্যানেজার। তিনি জানান, যথাযথ নিয়ম মেনেই আগের দিন ক্লাবগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বাফুফের প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডিং সাধারণত মাসের ১ তারিখ থেকে শুরু হলেও, ক্যাম্প আগে শুরু হওয়ায় ২৫ তারিখ থেকে ১ তারিখ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ফাইভ-স্টার হোটেলে থাকার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বাফুফে সভাপতি তাবীথ আউয়াল ব্যক্তিগত উদ্যোগেই বহন করছেন বলে জানান ম্যানেজার।
আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সাফ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। থমাস ডুলির অধীনে ৭ সদস্যের পুরোপুরি বিদেশি কোচিং প্যানেলের তত্ত্বাবধানে ইন্দোনেশিয়া সফরের বিতর্ক পেছনে ফেলে নতুন শুরুর অপেক্ষায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ডিসি/আপ্র/২৫/১০/২০২৭