নরওয়ের সালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে ফগহর্ন বাজিয়ে ঘুমন্ত মেরু ভালুককে জাগিয়ে তোলায় এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার ক্রোনার জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টাকা।
চলতি মাসের শুরুর দিকে উত্তর-পশ্চিম সালবার্ডের একটি সমুদ্রখাঁড়ি দিয়ে একটি জাহাজ যাওয়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। জাহাজের আরোহীরা স্থলভাগে একটি মেরু ভালুককে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। ভালুকটিকে কাছ থেকে দেখতে গিয়ে জাহাজে থাকা এক ব্যক্তি ফগহর্ন বাজান। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে মেরু ভালুকটি সেখান থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সালবার্ডের গভর্নর লার্স ফাউসে ঘটনাটি এবং ওই ব্যক্তিকে জরিমানা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাস্থলটি উত্তর মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে।
সালবার্ডের পরিবেশ আইন অনুযায়ী, কোনো কারণ ছাড়া মেরু ভালুককে বিরক্ত করা, তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা কিংবা তাড়া করা নিষিদ্ধ। দ্বীপপুঞ্জে চলাচলের ক্ষেত্রেও এমনভাবে চলার বিধান রয়েছে, যাতে বন্য প্রাণীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিরক্ত করা না হয়।
১৯৭২ সালে সালবার্ডে মেরু ভালুককে সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৫ সালের সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক জরিপে দ্বীপপুঞ্জটিতে প্রায় ২৫০টি মেরু ভালুকের সন্ধান পাওয়া যায়।
বন্য প্রাণীকে বিরক্ত করার কারণে সালবার্ডে জরিমানার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে একটি ওয়ালরাসের খুব কাছে চলে যাওয়ায় এক পর্যটককে ১১ হাজার ৫০০ ক্রোনার জরিমানা করা হয়েছিল। এক ক্রোনারের মূল্য প্রায় ১৩ টাকা।
সালবার্ডের বন্য প্রাণীর মধ্যে মেরু ভালুক ছাড়াও রয়েছে সিল, তিমি, বল্গা হরিণ ও মেরু শিয়াল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, এসব প্রাণীর আবাসস্থলে মানুষের চলাচল হলেও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। সূত্র: বিবিসি
সানা/ডিসি/আপ্র/১৭/৮/২০২৬