বিরোধী দলের নেতারা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়কার রাজনৈতিক ভাষার মতো বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তনি বলেছেন, “এখন যে ভাষায় আমাদের সম্মানিত বিরোধী দলের নেতারা কথা বলছেন-সরকারকে পাঁচ বছর থাকতে দেব না-এই ভাষায় কথা বলতেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালে যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন বলেছিল, একটি দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না। আজ একই ভাষায় কথা বলতে শুরু করেছেন আমাদের বিরোধী দলের নেতারা।” সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, সরকারের ভুল তুলে ধরবে-এটাই গণতান্ত্রিক রীতি। তবে সেই বিরোধিতা যেন এমন পর্যায়ে না যায়, যেখানে তা সংঘাতে রূপ নেয়। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতারা অবশ্যই সমালোচনা করবেন, অবশ্যই বিরোধিতা করবেন এবং সরকার যে ভুলগুলো করবে, সেগুলো দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু সেটা সংসদের মধ্যে হলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ঠিক থাকে। রাস্তায় আন্দোলন করে জনমত তৈরি করা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হলেও তা যেন সংঘাতের পর্যায়ে না পৌঁছায়।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমানে গণমাধ্যমে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই- এটি একটি ইতিবাচক বিষয়। তবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ মিডিয়া কার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত? মিডিয়া তো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে আমাদের প্রবেশের সুযোগ নেই।” সাংবাদিকদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা গ্রুপ তৈরি করে একজন আরেকজনকে সরিয়ে দিচ্ছেন। এই বিষয়গুলো তো সত্য। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সঠিকভাবে নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম থাকলে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আশ্বাস দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।
দেশটা আমাদের, বিভক্তি নয়: দেশের উন্নয়নে রাজনৈতিক বিভাজন দূর করার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশটা আমাদের। এখানে আমরা যদি সারাদিন মারামারি, কাটাকাটি ও সংঘাতে থাকি, তাহলে দেশ কোনোদিন সামনে এগোবে না।” তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হওয়ার সময় চীনও স্বাধীন হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্যের কারণ হিসেবে তিনি অভ্যন্তরীণ বিভক্তিকে দায়ী করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, পৃথিবী অনেক বদলে গেছে। বড় শক্তিগুলোর সংঘাত ও আগ্রাসনের মধ্যেও বিশ্ব পরিস্থিতি অনেক জটিল হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, আবদুল হাই শিকদার, মারুফ কামাল খান সোহেল, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৩/৮/২০২৬