গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

বক্তব্য নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, আহত সংবাদকর্মী; হেনস্তার অভিযোগ অন্তত ১০ সাংবাদিকের

ধানমন্ডিতে সাংবাদিক নিগ্রহে অভিযোগের তীর জামায়াতের দিকে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৪৩ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৩৫ এএম ২০২৬
ধানমন্ডিতে সাংবাদিক নিগ্রহে অভিযোগের তীর জামায়াতের দিকে
ছবি

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার ছবিটি সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মারধরের শিকার হয়েছেন দৈনিক সকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও কয়েকজন সংবাদকর্মী হামলা ও হেনস্তার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি, এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন গণমাধ্যমকর্মী বিভিন্নভাবে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোন আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বর্ণনা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলাবাগান এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি সোবহানবাগ মসজিদ এলাকা ঘুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন জামায়াত নেতাকে উপস্থিত দেখা যায়।

কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত
সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সমাবেশে একাধিক নেতা ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সংবাদ সংগ্রহের সুবিধার্থে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল একজন বা দুজন নেতার বক্তব্য নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী এর বিরোধিতা করেন।

হামলার শিকার সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশিরের দাবি, একজন বক্তা সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সব বক্তব্য নিতে হবে, না হলে চলে যেতে হবে।” এ ধরনের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

হামলায় আহত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির

শিশির বলেন, “আমি বলেছিলাম, আমরা আপনাদের কর্মী নই। আমাদের সঙ্গে এভাবে কথা বলা ঠিক নয়। এরপরই আমাকে স্বৈরাচারের দোসর ও আওয়ামী লীগের দোসর বলে আখ্যা দেওয়া হয়। তারপর কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে।”

‘মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি’
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, প্রথমে তাকে ধাক্কাধাক্কি করা হয়। পরে কলার চেপে ধরে টানাহেঁচড়া করা হয় এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। হামলার সময় তার নাক ও ঠোঁটে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় পাঠানো হয়। তার স্বজনদের ভাষ্য, চিকিৎসকরা তাকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।

সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার অন্যরাও
দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেন বলেন, আহত সহকর্মীকে রক্ষা করতে গিয়ে তারাও হামলার শিকার হন।

তার ভাষ্য, “দুই দফায় সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়া হয়। আমরা শিশিরকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয়েছিল।”

আনন্দবাজারের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জোবায়ের হোসেনও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, হামলাকারীদের আচরণ ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল।

উপস্থিত ছিলেন যেসব নেতা
ঘটনাস্থলের ভিডিওচিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচিতে স্থানীয় জামায়াত নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, আনিসুজ্জামান এবং জাহিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তবে হামলার ঘটনায় তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
সাংবাদিকদের অভিযোগ, ঘটনার সময় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আশপাশে অবস্থান করলেও হামলা ঠেকাতে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

তবে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন।

জামায়াত কী বলছে
সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে ধানমন্ডি থানা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুজিবুর রহমান খান ঘটনাটিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বহিরাগত কেউ ঢুকে পড়ে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।”

এদিকে ঘটনার বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় অবস্থান জানতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
ঘটনার পর সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি, সমাবেশ বা জনসমাগমে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব।

সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং অবাধ ও স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের পরিবেশের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। এ কারণে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার ভিডিওচিত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 
সানা/আপ্র/২৩/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

শান্তি, ফিলিস্তিন ও দেশ পুনর্গঠনের বার্তা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শান্তি, ফিলিস্তিন ও দেশ পুনর্গঠনের বার্তা

জাতিসংঘে তারেক রহমান

ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি বিপদ
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি বিপদ

রাজধানীতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখন আর শুধু ড্রেন, ময়লার স্তূপ কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দ...

ডেঙ্গু ঠেকাতে প্রতি শনিবার ৭৫ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু ঠেকাতে প্রতি শনিবার ৭৫ ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বিশেষ পরিচ্ছন...

জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণকে দিকনির্দেশনামূলক বললেন রাষ্ট্রপতি
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে তারেক রহমানের ভাষণকে দিকনির্দেশনামূলক বললেন রাষ্ট্রপতি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাস ভাড়া বাড়লো কিলোমিটারে ১৭ পয়সা, প্রজ্ঞাপনের আগেই বাড়তি আদায়

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির আগেই রাজধানীসহ বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন পরিবহনকর্মীদের কেউ কেউ। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, কোথাও প্রতি স্টপেজে পাঁচ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও গন্তব্যভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অথচ সরকার ও সড়ক পরিবহন মালিকপক্ষ প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন বাস ভাড়ার এই নৈরাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে