প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে আঞ্চলিকভাবে নববর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক কূটনীতি গড়ে তুলতে পারে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এবারের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসব আয়োজন করেছে। পহেলা বৈশাখ ঘিরে নানা আশঙ্কা থাকলেও এবারের আয়োজন ছিল স্বতঃস্ফূর্ত ও বর্ণাঢ্য।
তিনি আরো বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সময় স্বল্পতার কারণে এবারের আয়োজন সীমিত ছিল। ভবিষ্যতে বৈশাখকে কেন্দ্র করে শুধু কয়েক দিন নয়, পুরো মাসজুড়ে উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জাহেদ উর রহমান জানান, ১৪ এপ্রিল শুধু বাংলাদেশ নয়, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম এবং ভারতের কিছু অংশেও নববর্ষ পালিত হয়। এসব দেশকে নিয়ে যৌথভাবে আঞ্চলিক নববর্ষ উদযাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হতে পারে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইরানি বা পারসিক নববর্ষ নওরোজ বহু দেশে যৌথভাবে উদযাপিত হয়। একইভাবে বাংলাদেশও এমন উদ্যোগ নিতে পারে, যা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে একত্রিত করে জাতীয় ঐক্যকে আরো শক্তিশালী করবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, চলমান হামের টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৫ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। মোট লক্ষ্য ১ কোটি ৮০ লাখ শিশু।
এছাড়া সরকারের খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মোট ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটারের মধ্যে ৫৬১ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে, যা ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলো সরকারের উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমের ধারাবাহিক অগ্রগতির অংশ।
সানা/ডিসি/আপ্র/২১/৪/২০২৬