সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার কিছু সময় আগে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের স্মরণ করেন। এ সময় তারা শ্রদ্ধা জানানো শেষে বীর শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তিনি।
জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকালে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তারা সকাল সাড়ে ১০টার আগেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসেন এবং ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
নিরপেক্ষ আম্পায়ারের ভূমিকায় থাকব:ত্রয়োদশ সংসদ পরিচালনায় ‘আম্পায়ারের ভূমিকা’ পালন করবেন বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আপনারা নিশ্চয় ক্রিকেট খেলা দেখেন। আমি একজন সাবেক খেলোয়াড়। ক্রিকেটের মাঠে দুজন আম্পায়ার দেখেন। এখন আপনাদের সামনে দুজন আম্পায়ার-আমি এবং ডেপুটি স্পিকার দণ্ডায়মান রয়েছি। আমরা সকল ধরনের-যাতে বিরোধী দল ও সরকারি দল সম্মিলিতভাবে স্মুথলি জাতীয় সংসদ কার্যক্রম বাস্তবায়িত করতে পারে, সেজন্য আমরা নিরপেক্ষভাবে আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করব।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে সঙ্গে নিয়ে শুক্রবার বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কথা বলছিলেন একসময়ের জাতীয় দলের ফুটবলার হাফিজ। এর আগে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান নব নির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “জুলাই সনদ নিয়ে একটা বিতর্ক করা হচ্ছে; এটার প্রয়োজন ছিল না। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যে ডিসিশন নেবে, সেটাই সবার গ্রহণ করা উচিত।
ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করে জামায়াত জোটের সাংসদরা। সেদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রপ্রধানের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশের ঘোষণা দেওয়া মাত্রই জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের সাথে গাদ্দারি চলবে না’ লেখা লাল রঙের কার্ড প্রদর্শন করেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে। সংসদের ওয়াকআউট একটি প্রচলিত রীতি, এটা সবসময় হয়ে আসে। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম আমরাও করেছি। তবুও আমি বলব, তারা (বিরোধীরা) মোটামুটি শৃঙ্খলার মধ্যে ছিলেন। তবে সংসদে স্লোগান দেওয়াটা ঠিক না, এটা রেওয়াজের বাইরে। প্রথম দিন, অধিকাংশ সংসদ সদস্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। সংসদীয় রীতি-রেওয়াজ আত্মস্থ করতে কিছু দিন সময় লাগতে পারে। কিন্তু তারা যা কিছু করেছেন তাদের অধিকারের মধ্যে রয়েছে। এর বেশি কিছু করবেন না বলে আমরা আশা করি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, “অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংসদ পেয়েছি। আশা করি, আগামী দিনগুলোতে জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা সফল হব। একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে সরকারি দল ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সানা/আপ্র/১৩/৩/২০২৬