স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম দ্বিতীয়বার আসা নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার পর এ সংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তন করেছে সরকার।
নতুন নিয়মে বিশেষ অবদানের ক্ষেত্রে অন্তত ২৫ বছর পর একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবারো এ পুরস্কার দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত রোববার (৮ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে স্বাধীনতা পুরস্কার সংক্রান্ত নির্দেশাবলির ৭.১১ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে এ বিধান যুক্ত করার কথা জানানো হয়।
সংশোধিত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার বা অন্য কোনো জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কার প্রদানের জন্য বিবেচনা করা হবে না। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কার প্রাপ্তির পর অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখলে অন্যূন ২৫ বছর পর ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পুনরায় স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া যাবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. ফিরোজ আহমেদের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে’ এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
চলতি বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ঘোষিত তালিকায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রবর্তনের প্রথম বছরেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ সম্মাননা পেয়েছিলেন।
চলতি বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকায় সমাজসেবা ও জনসেবায় অবদানের জন্য তাকে মরণোত্তর এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। একই ব্যক্তির নাম আবার স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকায় আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই প্রেক্ষাপটে নির্দেশনা সংশোধন করে ২৫ বছর পর অন্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের ভিত্তিতে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আবারো স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সুযোগ তৈরি করল সরকার।
সানা/আপ্র/৯/৩/২০২৬