দুবাই থেকে ঢাকায় এসে অন্তর্বাস ও জিন্সের প্যান্টে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট আনার অভিযোগে গ্রেফতার দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সাত দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। গ্রেফতার দুজন হলেন চেন লিউন ও মো শিয়াওইউ।
বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. মাজেদুল ইসলাম। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত ২৯ অক্টোবর আদালত দুই আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুবাই থেকে এমিরেটসের ইকে৫৮৬ ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তাঁরা। কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় কাস্টমসের শিফট-এ ও প্রিভেনটিভ দলের সদস্যরা তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের পরিহিত জিন্সের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের ভেতরে কালো কাপড় দিয়ে সেলাই করে রাখা নরম, হলুদ রঙের পেস্টজাতীয় বস্তু পাওয়া যায়। বিশেষ কৌশলে লুকানো এসব বস্তু সংশ্লিষ্ট কাপড় কেটে বের করা হয়। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে সেগুলো ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ বলে জানা যায়।
এজাহারে বলা হয়েছে, দুই যাত্রীর প্রত্যেকের কাছ থেকে আনুমানিক ছয় কেজি করে মোট ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, পরিহিত প্যান্ট, অন্তর্বাস ও স্কচটেপসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রিভেনটিভ) জামিল সারোয়ার আহাদ। মামলাটির তদন্ত চলছে।
সানা/আপ্র/৬/১১/২০২৬