গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

জাপানে শতবর্ষীর সংখ্যা লাখ ছাড়ালো

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৪৯ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫২ এএম ২০২৬
জাপানে শতবর্ষীর সংখ্যা লাখ ছাড়ালো
ছবি

ছবি সংগৃহীত

জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বর্তমানে শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। বিশ্বের কোনো দেশেই এই সংখ্যা এত বেশি নয়। তাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশই নারী।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের সবচেয়ে বয়স্ক নারী কিয়োটো শহরের বাসিন্দা কিশিমোতো ফুয়ো। তার বয়স ১১৪ বছর। সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কুমামোতো শহরের কাতো হিকারু, তার বয়স ১১২ বছর।

জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উএনো বলেন, এত মানুষ দীর্ঘ, সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন—এটি আনন্দের বিষয়। চিকিৎসা ও প্রযুক্তির অগ্রগতিও মানুষের আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। তবে বিপুলসংখ্যক প্রবীণকে দীর্ঘমেয়াদে সহায়তা দিতে সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা টেকসই রাখা বড় চ্যালেঞ্জ বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘ জীবনের পেছনে কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবার ও সক্রিয় জীবনযাপন জাপানিদের দীর্ঘায়ুর অন্যতম কারণ। দেশটির প্রচলিত খাবারে মাছ, শাকসবজি ও ভাতের পরিমাণ বেশি। পশ্চিমা অনেক খাদ্যাভ্যাসের তুলনায় এসব খাবারে সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণও কম।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি বয়স্কদের সক্রিয় থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রবীণ জাপানি নিয়মিত হাঁটেন, গণপরিবহন ব্যবহার করেন, সাইকেল চালান এবং শরীরচর্চা করেন।

বাড়ছে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা

জাপানে প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের জন্য তৈরি পণ্যের বাজারও বড় হচ্ছে। বিবিসি জানায়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে শিশুদের ব্যবহারের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বিক্রি বেশি হচ্ছে।

বয়স্কদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করতে বিভিন্ন প্রযুক্তিও তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে শরীরের বিভিন্ন অংশ নড়াচড়ায় সহায়তা করা চালিত পোশাক এবং চোখের সামনে থাকা জিনিস পরিষ্কারভাবে দেখতে সহায়তা করা বিশেষ চশমা রয়েছে।

তবে দীর্ঘায়ুর এই সাফল্যের পাশাপাশি জাপান বড় ধরনের জনসংখ্যাগত সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

একটি দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে প্রত্যেক নারীর গড়ে প্রায় ২ দশমিক ১টি সন্তান থাকা প্রয়োজন। কিন্তু গত বছর জাপানের মোট প্রজনন হার রেকর্ড সর্বনিম্ন ১ দশমিক ১৪-তে নেমেছে।

জাতীয় জনসংখ্যা ও সামাজিক নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০৭০ সালে জাপানের জনসংখ্যা কমে ৮ কোটি ৭০ লাখে দাঁড়াতে পারে। ২০০৮ সালে দেশটির সর্বোচ্চ জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। সে তুলনায় ২০৭০ সালের সম্ভাব্য জনসংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

বর্তমানে জাপানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৭০ সালে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

জাপানি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে ‘অস্তিত্বের সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টিকে ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কেন কমছে জাপানের জনসংখ্যা?

২০২৫ সালে জাপানের ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে মাত্র দুটিতে জনসংখ্যা কমেনি। দেশটির জনসংখ্যা কমার গতিও বাড়ছে।

তরুণদের সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি ও আর্থিক সহায়তা চালু করলেও জন্মহার বাড়াতে সেগুলো এখনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য আনতে পারেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। কম বিয়ের হার, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সন্তান লালন-পালনের বাড়তি খরচ এর অন্যতম।

গত কয়েক বছরে জাপানে অভিবাসনও বেড়েছে। তবে দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ বিদেশি। একই সঙ্গে আরও বেশি অভিবাসী গ্রহণের বিরোধিতাও রয়েছে।

ছয় দশকে শতবর্ষী বেড়েছে কয়েক শ গুণ

জাপান সরকার ১৯৬৩ সালে শতবর্ষী মানুষের হিসাব রাখা শুরু করে। সে সময় দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩ জন।

১৯৮১ সালে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়ায়। ১৯৯৮ সালে তা ১০ হাজারের বেশি হয়। আর এখন সেই সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

জাপানের বার্ষিক ‘বয়স্কদের প্রতি শ্রদ্ধা’ দিবসের আগে সম্প্রতি এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। দিবসটিতে সরকার ১০০ বছরে পা দেওয়া ব্যক্তিদের চিঠি ও ঐতিহ্যবাহী পানীয় পরিবেশনের কাপ দিয়ে সম্মান জানায়।

তবে শতবর্ষী মানুষের বৈশ্বিক পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ভুল তথ্য, অনির্ভরযোগ্য সরকারি নথি এবং জন্মসনদ না থাকার কারণে কিছু দেশে প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে বেশি শতবর্ষী মানুষের হিসাব পাওয়া যেতে পারে।

জাপান সরকারের ২০১০ সালের একটি পারিবারিক নিবন্ধন নিরীক্ষায় ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী হিসেবে তালিকাভুক্ত ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের কেউ কেউ কয়েক দশক আগেই মারা গিয়েছিলেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্বল নথি সংরক্ষণ এবং বয়স্ক স্বজনের মৃত্যুর তথ্য গোপন করে পেনশন পাওয়ার চেষ্টা—এ ধরনের বিষয় ভুল হিসাবের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল।

সূত্র: বিবিসি

এসি/আপ্র/১৬/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমেছে
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমেছে

দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় জাতী...

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের লেখা

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আগামী শিক্ষা...

সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকার মৃত্যু, মালামালসহ গ্রেফতার ২
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংসদ ভবনের সামনে শিক্ষিকার মৃত্যু, মালামালসহ গ্রেফতার ২

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের টানে রিকশা থেকে...

সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক হাজিরা চালুর নির্দেশ

মাঠ পর্যায়ে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে দেশের সব উপজেলা ভূমি অফিস ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই