গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

মেনু

সৎ রাজনীতির উত্তম নজরানা পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১২:১১ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৯ এএম ২০২৬
সৎ রাজনীতির উত্তম নজরানা পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ছবি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবন যেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও বন্ধুর পথের কাহিনি -ফাইল ছবি

শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে, তৃণমূলের পৌর চেয়ারম্যান থেকে মন্ত্রিত্ব; 
দীর্ঘ সংগ্রাম ও দায়িত্বশীলতার পথ পেরিয়ে 
এবার বঙ্গভবনের পথে বিএনপির এই নেতা

একজন শিক্ষকের হাতে ছিল চক, বোর্ড আর পাঠ্যবই। সেই হাতই একদিন ধরেছিল রাজনীতির পতাকা। ছাত্রজীবনে কারাবরণ, শিক্ষকতার নিরাপদ পেশা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ, নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে পৌরসভার চেয়ারম্যান হওয়া, এরপর একটি রাজনৈতিক দলের জেলা নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নেতৃত্বের শীর্ষে উঠে আসা—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবন যেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও বন্ধুর পথের কাহিনি।

সেই পথের শেষ প্রান্তে এখন আরেকটি বড় বাঁক। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। 
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তাঁর পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাঁর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এখন আনুষ্ঠানিকতামাত্র। তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা।

এমন এক সময়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি, যখন তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনাও কম নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি থেকেও ব্যক্তিগত জাঁকজমককে জীবনের লক্ষ্য বানাননি—এমন একটি ভাবমূর্তি তাঁর সমর্থকদের কাছে দীর্ঘদিনের। তবে তাঁকে সম্পদহীন বা ঢাকায় নিজের কোনো আবাসিক সম্পদ নেই—এমন দাবি করা তথ্যের সঙ্গে মেলে না। সর্বশেষ নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর নামে পাঁচ একর কৃষিজমি ও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া দোতলা বাড়ির অংশের কথা রয়েছে; তাঁর স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের নামে গুলশানে একটি ফ্ল্যাটও উল্লেখ আছে। তাই তাঁর জীবনযাপনের সরলতার কথা বলতে গিয়ে তথ্যের সীমা অতিক্রম না করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার দাবি।

তবু ফখরুলের জীবনের যে দিকটি সত্যিই আলাদা করে চোখে পড়ে, তা হলো—রাজনীতিকে ব্যক্তিগত বিত্তবৈভবের সিঁড়ি হিসেবে না দেখে দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক বিশ্বাস ও দায়িত্বের ক্ষেত্র হিসেবে বহন করা।

ছাত্রজীবনের বামপন্থী চেতনা থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হল শাখার মহাসচিব হন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সে সময় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়।

এই জায়গাটিই ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। আজ তিনি যে রাজনৈতিক দলের মহাসচিব এবং রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী, তাঁর রাজনৈতিক পথচলার শুরু হয়েছিল ভিন্ন একটি মতাদর্শিক পরিসরে। ছাত্রজীবনের বামপন্থী রাজনীতির অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক বোধ, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে নিশ্চয়ই ভূমিকা রেখেছে। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবনকে তাই একটি মাত্র মতাদর্শের সরল রেখায় বিচার করার সুযোগ নেই।

শিক্ষকতার নিরাপদ জীবন ছেড়ে রাজনীতির বন্ধুর পথে
স্বাধীনতার পর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া তাঁর জন্য ছিল স্বাভাবিক ও নিরাপদ পেশাগত পথ। ১৯৭২ সালে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক হিসেবে ঢাকা কলেজে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। সরকারি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে উপপরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও কাজ করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

কিন্তু ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি সক্রিয় রাজনীতিতে চলে আসেন। এ সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর জীবনের বড় মোড়। কারণ, একজন শিক্ষিত সরকারি কর্মকর্তার সামনে তখনও ছিল স্থিতিশীল কর্মজীবনের পথ। তিনি বেছে নিলেন অনিশ্চিত, সংঘাতময় ও ঝুঁকিপূর্ণ রাজনীতির পথ।

১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে যাওয়ার বহু আগে তিনি স্থানীয় মানুষের ভোটে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার থেকে শুরু হওয়া সেই পথই তাঁকে ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৯২ সালে হন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। এরপর কৃষক দলের নেতৃত্ব পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসেন। ২০০৯ সালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখপাত্র
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় সম্ভবত এসেছে বিএনপির দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির সময়ে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে অবস্থান করায় দেশের মাঠের রাজনীতিতে বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন ফখরুল।

সভা-সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন, আন্দোলন-কর্মসূচি—সবখানেই তাঁকে দেখা গেছে সামনে। রাজনৈতিক মামলা তাঁর পিছু ছাড়েনি। তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় নিজের বিরুদ্ধে মোট ৫০টি মামলার উল্লেখ রয়েছে; এর মধ্যে ৪৭টি মামলা থেকে অব্যাহতি এবং তিনটিতে খালাস পাওয়ার তথ্যও দেওয়া হয়েছে। এসব মামলার বড় অংশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়ের হয়েছিল।

রাজনীতির মাঠে তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সম্ভবত তাঁর ভাষা ও আচরণ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেখানে উত্তেজনা, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কদর্য বাক্যবিনিময় প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে, সেখানে ফখরুল তুলনামূলকভাবে সংযত ভাষায় রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরার জন্য পরিচিতি পেয়েছেন।

তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকেরা এটিকে ‘সজ্জন রাজনীতিবিদ’-এর বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখেন। আবার বিরোধীরা তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু মতের পার্থক্য সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর ব্যক্তিগত ভদ্রতা ও সংযত প্রকাশভঙ্গি আলাদা করে আলোচিত হয়েছে।

ক্ষমতার রাজনীতিতে এসেও পথের স্মৃতি
২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়ার সরকারে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৮ সালে ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হন। বগুড়া-৬ আসনে জয়ী হলেও নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে তিনি সংসদে যোগ দেননি। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির পথ পেরিয়ে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে জয়ী হয়ে আবার সংসদে ফেরেন এবং নতুন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

আর মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে সেই মন্ত্রিসভার সদস্যই এখন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে।

ফখরুলের রাজনীতিতে ‘ব্যক্তিগত অর্জন’ কোথায়?
এই প্রশ্নটি তাঁর রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের সঙ্গে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ক্ষমতার সঙ্গে থাকা বহু নেতার জীবনে সম্পদ, ব্যবসা, বাড়ি-গাড়ি কিংবা পারিবারিক প্রভাবের বিস্তার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফখরুলের ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে রয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৫২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮৩ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে; বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণও আলাদাভাবে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

অতএব তাঁকে ‘সম্পদহীন’ কিংবা ‘কিছুই অর্জন করেননি’—এভাবে উপস্থাপন করা সঠিক হবে না। কিন্তু তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথের দিকে তাকালে যে বিষয়টি লক্ষণীয়, তা হলো ক্ষমতার শীর্ষে থাকার চেয়ে রাজনৈতিক দায়িত্বই যেন তাঁর জীবনের প্রধান পরিচয় হয়ে থেকেছে।

একজন শিক্ষক থেকে পৌর চেয়ারম্যান, সেখান থেকে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, মহাসচিব, মন্ত্রী—এবং এখন রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী। পদ বদলেছে, দায়িত্ব বদলেছে, রাজনৈতিক পরিবেশ বদলেছে; কিন্তু তাঁর জীবনযাপনের মূল সুরে বড় কোনো প্রদর্শনবাদ চোখে পড়েনি—এটাই তাঁর সমর্থকদের কাছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সম্পদ।

বঙ্গভবনের পথে একজন ‘রাজনৈতিক কর্মী’
রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়নকে শুধু একটি সাংবিধানিক পদে একজন রাজনীতিকের উত্তরণ হিসেবে দেখলে মির্জা ফখরুলের গল্পটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

কারণ তাঁর রাজনৈতিক যাত্রায় রাজপথ আছে, কারাগার আছে, শিক্ষকতার শ্রেণিকক্ষ আছে, পৌরসভার স্থানীয় সরকার আছে, সংসদ আছে, মন্ত্রিসভা আছে এবং দীর্ঘদিন বিরোধী দলের কঠিন সময়ও আছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, ১৬ আগস্ট হবে যাচাই-বাছাই, ১৮ আগস্ট প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা।

অর্থাৎ এখন আর তাঁর সামনে খুব বেশি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নেই। সবকিছু নির্ধারিত পথে এগোলে বঙ্গভবনে উঠবেন সেই মানুষটি, যিনি জীবনের শুরুতে ছিলেন অর্থনীতির শিক্ষক; যাঁর রাজনৈতিক হাতেখড়ি হয়েছিল বামপন্থী ছাত্ররাজনীতিতে; যিনি একসময় ঠাকুরগাঁও পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান; যিনি পরে বিএনপির জেলা নেতৃত্ব থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে এসেছেন; যিনি দীর্ঘ সময় দলটির দুর্দিনে মাঠের রাজনীতির ভার বহন করেছেন।

এই দীর্ঘ পথের সবচেয়ে মানবিক পাঠটি হয়তো এখানেই—রাজনীতিতে বড় হওয়ার অর্থ সব সময় বড় সম্পদের মালিক হওয়া নয়; কখনো কখনো বড় হয়ে ওঠার অর্থ দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব বহন করা, প্রতিকূলতার মধ্যে টিকে থাকা এবং নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য ব্যক্তিগত স্বস্তির পথ ছেড়ে দেওয়া।

মির্জা ফখরুলের জীবনকে ঘিরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তাঁর সিদ্ধান্তের সমালোচনা হতে পারে, তাঁর দলের রাজনীতির মূল্যায়ন নিয়েও বিতর্ক থাকবে। কিন্তু তাঁর জীবনের পথচলায় একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই—তিনি হঠাৎ করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের সামনে এসে দাঁড়াননি।

এই পথ শুরু হয়েছিল ছাত্ররাজনীতির মিছিল থেকে। তারপর শিক্ষকতার শ্রেণিকক্ষ পেরিয়ে পৌরসভা, জেলা রাজনীতি, সংসদ, মন্ত্রিসভা এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দীর্ঘ সিঁড়ি বেয়ে আজ তিনি বঙ্গভবনের দরজায়।

তাই ‘সৎ রাজনীতির উত্তম নজরানা’ কথাটি যদি কোনো অর্থ বহন করে, তার সবচেয়ে বড় তাৎপর্য সম্পদের অঙ্কে নয়; বরং একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শ্রম, ধৈর্য, সংযম, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতিতে।

আর সেই কারণেই ফখরুলের বঙ্গভবনের পথে যাত্রা শুধু একটি পদে আরোহণের গল্প নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন শিক্ষক থেকে রাষ্ট্রের অভিভাবকসুলভ সাংবিধানিক দায়িত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়া এক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পরিণত অধ্যায়।
সানা/আপ্র/১৪/৮/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইসিতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মনোনয়নপত্র জমা তিনটি
১৩ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইসিতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মনোনয়নপত্র জমা তিনটি

আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটের প...

নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যানি, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন
১৩ আগস্ট ২০২৬

নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যানি, এলজিআরডিতে সালাহউদ্দিন

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআর...

আমরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে নির্বাচিত করতে চাই: চিফ হুইপ
১৩ আগস্ট ২০২৬

আমরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে নির্বাচিত করতে চাই: চিফ হুইপ

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মি...

জ্বালানি সংকটে নতুন তিন এলএনজি টার্মিনাল
১৩ আগস্ট ২০২৬

জ্বালানি সংকটে নতুন তিন এলএনজি টার্মিনাল

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন আরো তিনটি ভ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই