গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

মেনু

একই বাড়িতে থেকেও ধীরে ধীরে বেড়ে যায় পরিবারিক দূরত্ব

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৬ পিএম, ২৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২২:০৪ এএম ২০২৬
একই বাড়িতে থেকেও ধীরে ধীরে বেড়ে যায় পরিবারিক দূরত্ব
ছবি

ছবি সংগৃহীত

একই বাড়িতে থাকা মানেই যে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকবে- এমনটি সব সময় ঠিক হয় না। অনেক পরিবারে দেখা যায়, সবাই একসঙ্গে থাকলেও একে অন্যের সঙ্গে খুব কম কথা বলেন। দিনের বেশির ভাগ সময় কেটে যায় কাজ, পড়াশোনা কিংবা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থেকে। ফলে ধীরে ধীরে একই ছাদের নিচে থেকেও মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু একসঙ্গে বসবাসের ওপর নির্ভর করে ন; বরং নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সম্মান, সময় দেওয়া এবং একে অন্যের অনুভূতি বোঝার চেষ্টাই একটি সম্পর্ককে দৃঢ় করে। এসবের অভাব হলে একই বাড়িতে থেকেও অনেকেই একাকী অনুভব করতে পারেন।

কথাবার্তা কমে যাওয়া: পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার অন্যতম কারণ হলো যোগাযোগের অভাব। অনেক সময় প্রয়োজন ছাড়া কেউ কারো সঙ্গে কথা বলেন না। কেবল খাওয়া, বাজার বা দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনেই কথা হয়। কিন্তু মনের কথা, দিনের অভিজ্ঞতা বা ছোট ছোট আনন্দ ভাগাভাগি করার অভ্যাস হারিয়ে গেলে সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়।

মোবাইল ও প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার: বর্তমানে পরিবারের সবাই একই ঘরে থাকলেও প্রত্যেকে নিজের মোবাইল ফোন বা অন্য ডিভাইসে ব্যস্ত থাকেন। একসময় সন্ধ্যার পর পরিবারের সবাই একসঙ্গে গল্প করতেন। এখন সেই সময়ের জায়গা দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও বা অনলাইন বিনোদন। ফলে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ কমে যাচ্ছে। 
ব্যস্ত জীবনযাপন: অফিস, ব্যবসা, পড়াশোনা এবং নানা দায়িত্বের কারণে অনেকেই পরিবারের জন্য আলাদা সময় বের করতে পারেন না। দিনের শেষে সবাই এতটাই ক্লান্ত থাকেন যে, প্রয়োজনীয় কথাবার্তার বাইরে আর কোনো আলাপ হয় না। দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে আবেগের সংযোগ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

একে অন্যকে না শোনা: অনেক সময় আমরা নিজের কথা বলতেই বেশি আগ্রহী থাকি, কিন্তু অন্যের কথা মন দিয়ে শুনি না। পরিবারের কেউ কোনো সমস্যার কথা বলতে চাইলে সেটিকে গুরুত্ব না দেওয়া বা দ্রুত বিচার করে ফেলা সম্পর্কের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি করতে পারে। ধীরে ধীরে মানুষ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাই বন্ধ করে দেন।

ছোট অভিমান জমে বড় দূরত্ব: সব সম্পর্কেই মতের অমিল বা ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। কিন্তু সেই সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না করলে ছোট অভিমান ধীরে ধীরে বড় দূরত্বে রূপ নেয়। অনেকেই মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে না বলা কষ্ট সম্পর্ককে আরও দুর্বল করে দেয়।

তুলনা ও অতিরিক্ত সমালোচনা: পরিবারে যদি বারবার অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা হয় বা প্রতিটি কাজের সমালোচনা করা হয়, তাহলে সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যায়। এতে আত্মবিশ্বাসে প্রভাব পড়ে এবং পরিবারের সদস্যরা নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য সমালোচনার পাশাপাশি প্রশংসা ও উৎসাহও জরুরি।

একসঙ্গে সময় না কাটানো: একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, বেড়াতে যাওয়া কিংবা অন্তত দিনে কিছু সময় গল্প করা সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। কিন্তু যখন পরিবারের প্রত্যেকে আলাদা রুটিনে চলতে শুরু করেন, তখন সেই সুযোগ কমে যায়। নিয়মিত ছোট ছোট মুহূর্ত ভাগাভাগি করাও পারিবারিক বন্ধনকে দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে।

মানসিক চাপের প্রভাব: কর্মক্ষেত্রের চাপ, আর্থিক উদ্বেগ বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে অনেকেই চুপচাপ হয়ে যান। তখন পরিবারের সঙ্গে আগের মতো সময় কাটাতে বা কথা বলতে ইচ্ছা করে না। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তাহলে অজান্তেই সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

দূরত্ব কমানোর উপায়: পরিবারের সম্পর্ক ভালো রাখতে প্রতিদিন বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তা হলো প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট মোবাইল ছাড়া একসঙ্গে সময় কাটানো; পরিবারের সদস্যদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা; ছোট সাফল্যেও প্রশংসা করা; অভিমান জমতে না দিয়ে সময়মতো কথা বলা; সপ্তাহে অন্তত একবার একসঙ্গে খাওয়ার বা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা; পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত মতামত ও সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখানো।

কথা কম বলার অভ্যাস মানেই আবেগহীনতা নয়: একই ছাদের নিচে থাকা মানেই মানসিকভাবে কাছাকাছি থাকা নয়। সম্পর্ক টিকে থাকে যত্ন, সময়, শ্রদ্ধা এবং আন্তরিক যোগাযোগের ওপর। তাই পরিবারে যদি দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে, তাহলে সেটিকে স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আবারও সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা উচিত। একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো বা মন দিয়ে অন্যের কথা শোনাই সম্পর্ককে নতুন করে গড়ে তুলতে পারে। সূত্র: মিডিয়াম।

আপ্র/কেএমএএ/২৯.০৬.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রিয়জনের আলতো ছোঁয়া মনের শান্তির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত
২৯ জুন ২০২৬

প্রিয়জনের আলতো ছোঁয়া মনের শান্তির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত

মানুষ সামাজিক প্রাণী। জন্মের পর থেকেই বেঁচে থাকা, নিরাপত্তাবোধ ও আবেগের বিকাশের জন্য অন্য মানুষের স্...

দেশে ভ্রমণের কয়েকটি স্থান বর্ষায় ফিরে পায় সৌন্দর্য
২৯ জুন ২০২৬

দেশে ভ্রমণের কয়েকটি স্থান বর্ষায় ফিরে পায় সৌন্দর্য

বর্ষাকালে ভ্রমণে কোথায় যাওয়া যায়, এ কথা ভাবছেন? বর্ষাকালে বাংলাদেশের কিছু জায়গা যৌবন ফিরে পায় এবং সৌ...

আমের রসে নানা স্বাদের তিন খাবার
২৯ জুন ২০২৬

আমের রসে নানা স্বাদের তিন খাবার

পাকা আম এখন ঘরে ঘরে। আমের স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে আমের রস দিয়ে তৈরি করতে পারেন নানা স্বাদের খাবার। নিচ...

ফ্রেমে বন্দি ছবি একটি সময়, অনুভূতি ও স্মৃতির সাক্ষী
২৯ জুন ২০২৬

ফ্রেমে বন্দি ছবি একটি সময়, অনুভূতি ও স্মৃতির সাক্ষী

মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখার এক অনন্য মাধ্যম হলো ক্যামেরা। একটি ছবি শুধু এ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে রিট বিতর্ক ও হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচেষ্টা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট আবেদনটি ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত ও হেয় প্রতিপন্ন করার একটি প্রচেষ্টা। আপনি কি মনে করেন চিফ প্রসিকিউটরের মন্তব্য সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে