সাংবাদিক ফারজানা রুপার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করতে চান যুক্তরাজ্যের দুই আইনজীবী। এ জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী দুই আইনজীবী হলেন লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের জোনাথন প্রাইস কেসি ও নিকিলা কৌশিক। তাঁরা দুজনই সাংবাদিকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ফারজানা রুপার আইনজীবী মাহবুব শফিক বার কাউন্সিলে এই আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেন। তাঁর ভাষ্য, এর আগে গত ১ অক্টোবর ওই দুই ব্রিটিশ আইনজীবী ই-মেইলের মাধ্যমে বার কাউন্সিলে আবেদন পাঠিয়েছিলেন।
মাহবুব শফিক বলেন, “এই দুই আইনজীবী নিজ থেকে আগেই বার কাউন্সিলে ইমেইলের মাধ্যমে ফারজানা রুপার আইনজীবী হিসেবে থাকার আবেদন করেছেন। আজ ফারজানা রুপার আইনজীবী হিসেবে আমাকে দিয়েও একটা আনুষ্ঠানিক আবেদন বার কাউন্সিলে দিয়েছেন।”
বার কাউন্সিলে জমা দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবীদের শুনানিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ জন্য বার কাউন্সিলের অনুমতি প্রয়োজন।
আগামী ১ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড মামলায় ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। মামলার বিচারকাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় বিদেশি আইনজীবীদের অনুমতির বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বার কাউন্সিলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন সিকদার বলেন, “এ ধরনের আবেদন আমরা কাউন্সিলের এজেন্ডাভুক্ত করে উত্থাপন করি। কাউন্সিল আবেদন পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেন। ফারজানা রুপার আইনজীবী নিয়োগেও এ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।”
গ্রেফতার ও মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট দেশের বাইরে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফারজানা রুপা ও তাঁর স্বামী একাত্তর টেলিভিশনের তৎকালীন হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে উত্তরা পূর্ব থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়। পরদিন আদালত ওই মামলায় তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে আদাবর থানায় পোশাকশ্রমিক রুবেল হত্যা মামলাতেও তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই মামলায় তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০২৬ সালের ১১ মে হাইকোর্ট ফারজানা রুপাকে ছয়টি এবং শাকিল আহমেদকে পাঁচটি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। তবে অন্য একটি মামলায় জামিন না হওয়ায় তখন তাঁরা মুক্তি পাননি।
পরে ৭ জুন আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি তাঁদের জামিনের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়।
এদিকে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট একাত্তর টেলিভিশন শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপাকে তাঁদের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
সানা/আপ্র/১৪/১০/২০২৬