দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর শর্তে ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প জানান, ইরান ও পশ্চিম এশিয়ার কয়েকটি দেশ তাকে ‘কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ’ জানিয়েছে, যাতে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা যায়। ওই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই সম্ভাব্য হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তির শর্ত হিসেবে হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে পুরোপুরি খুলে দেওয়া এবং ‘ইরানের পারমাণবিক হুমকির’ অবসান নিশ্চিত করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তিনি।
বিবিসি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দাবি করেছেন, এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে ইসরায়েল একমত। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানও প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ওই বৈঠকে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘ভয়াবহ আঘাত’ হানতে প্রস্তুত এবং একপর্যায়ে ইরান তা আর সহ্য করতে পারবে না। পরে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন হামলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন হতে পারত।
এদিকে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। অ্যাক্সিওস ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তিনি ট্রাম্পকে ফোন করে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।
ট্রাম্পের ঘোষণার আগে থেকেই ইরান নতুন মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছিল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা করা পশ্চিম এশিয়ার যেকোনো দেশ ‘যুদ্ধের আগুনে ভস্মীভূত হবে’।
ইরানের সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ জানিয়েছে, দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় মার্কিন হামলা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইসরায়েলের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
সংঘাত আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হলে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ভ্রমণ সীমিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও জুনে তা ভেঙে যায়। সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীর ওপর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শক্তিশালী হামলার ঘোষণা দিয়েছিল।
এই সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশ। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, অ্যাক্সিওস
সানা/ডিসি/আপ্র/২/৮/২০২৬