উপসাগরে চলাচলের সময় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজ। শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘আল মায়েদা’ নামের জাহাজটি হামলার শিকার হয় বলে জানিয়েছে কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি। তবে এ ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হননি এবং পরিবেশেরও ক্ষতি হয়নি। খবর আলজাজিরার।
রোববার (১ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি জানায়, জাহাজটি তাদের মালিকানাধীন। হামলার পরও এটি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে এবং চলাচলের উপযোগী আছে। ঘটনার প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কাতার স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জাহাজের নাবিকদের সবাই নিরাপদ রয়েছেন। পরিবেশদূষণ বা অন্য কোনো পরিবেশগত ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি। কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি দেশটির বন্দর ও টার্মিনালগুলোতে টাগবোট এবং সামুদ্রিক সহায়তা সেবা দিয়ে থাকে।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সর্বশেষ ঘটনা এটি। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলা বা আঘাতের শিকার হয়েছে।
যুদ্ধের শুরুতেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া এ জলপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করলে জাহাজ ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে বলেও বারবার সতর্ক করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ আরোপের পর জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। অন্তত ২৯টি জাহাজে হামলার ঘটনা নিয়ে অক্টোবর ছিল যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে সহিংস মাস। এর আগে গত মার্চে ২০টি জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।
সানা/আপ্র/০১/১১/২০২৬