গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ইউরোপে দাবদাহে রেকর্ড প্রাণহানি ৫০ হাজার ছাড়ালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:৪২ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০১:৩৩ এএম ২০২৬
ইউরোপে দাবদাহে রেকর্ড প্রাণহানি ৫০ হাজার ছাড়ালো
ছবি

দাবদাহজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে

চলতি বছরের গ্রীষ্মে ইউরোপজুড়ে তীব্র দাবদাহে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। দাবদাহজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৩২ হাজার ৬০০টির বেশি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

গবেষণা সাময়িকী নেচার হেলথে প্রকাশিত সহকর্মীদের পর্যালোচনায় উত্তীর্ণ দুটি গবেষণা নিবন্ধে এসব তথ্য উঠে এসেছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক গবেষক এবং গবেষণার অন্যতম লেখক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, দাবদাহজনিত মৃত্যুর হিসাবে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের অর্ধেকেরও বেশি এলাকার ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।

জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে আন্তর্জাতিক নেতাদের তুরস্কে সমবেত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এ তথ্য সামনে এল। এর কয়েক দিন আগে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার সুযোগ বিশ্বের সামনে প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

ক্লেয়ার বার্নস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ঠেকানোর পথ থেকে বিশ্ব অনেকটাই সরে গেছে। সরকারগুলোকে বুঝতে হবে, দ্রুত পদক্ষেপ ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ ইউরোপে চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের মধ্যে দাবদাহ এখন অন্যতম প্রাণঘাতী বিপদ। চলতি বছরের মে মাসের শেষ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রায় পুরো মহাদেশ কার্যত ঝলসে গেছে।

এটি পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রীষ্মকাল ছিল। এ সময় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের চেয়ে প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। কোনো কোনো দেশে নির্দিষ্ট দিনে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি রেকর্ড করা হয়।

গ্রীষ্মে দাবদাহে প্রাণহানির হিসাব করতে বিজ্ঞানীরা ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরের তাপমাত্রার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে সম্ভাব্য তাপমাত্রার তুলনা করেন। এরপর জুনের শুরু থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত দাবদাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা নির্ণয়ে উচ্চ তাপমাত্রা ও দৈনিক মৃত্যুর সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি গবেষণাভিত্তিক মডেল ব্যবহার করেন। গবেষকদের দাবি, এ পদ্ধতিতে পাওয়া আনুমানিক মৃত্যুর সংখ্যা বিভিন্ন দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যানের কাছাকাছি থাকে।

এই বিশ্লেষণে দাবদাহজনিত মৃত্যুর আনুমানিক সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ হাজার ৩৯১। গবেষকদের মতে, গত ২৬ বছরের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ প্রাণহানি। ২০২২ ও ২০০৩ সালে ইউরোপে আঘাত হানা বড় দাবদাহের চেয়েও এ সংখ্যা বেশি।

দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যুক্তরাজ্যসহ তুলনামূলক শীতল উত্তরাঞ্চলীয় দেশগুলোতেও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সীরা। তবে ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যুর সঙ্গে দাবদাহের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গবেষকেরা বলছেন, দাবদাহজনিত মৃত্যুর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে দাবদাহে মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারজনিত দূষণ দায়ী ছিল। বর্তমানে এ হার বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণায় সরাসরি যুক্ত না থাকা ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাকেল নুনেস বলেন, দাবদাহ কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে, গবেষণার ফল তার প্রমাণ। এর প্রভাব সব সময় তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয় না বলে দাবদাহকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

নুনেস আরো বলেন, কম বয়সীদের মৃত্যু বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। ৬৫ বছরের কম বয়সী হাজার হাজার মানুষেরও দাবদাহে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্লেয়ার বার্নস সতর্ক করে বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্বকে একের পর এক তীব্র ও বিপজ্জনক গ্রীষ্মের মুখোমুখি হতে হবে। ভবিষ্যতে আরো প্রাণঘাতী গ্রীষ্মের আশঙ্কাও রয়েছে। সূত্র: সিএনএন
সানা/আপ্র/২৪/১০/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

পাঁচ বছর পর মায়ের সঙ্গে কথা বললেন সু চির ছেলে
২৪ অক্টোবর ২০২৬

পাঁচ বছর পর মায়ের সঙ্গে কথা বললেন সু চির ছেলে

মিয়ানমারের গৃহবন্দি গণতন্ত্রপন্থি সাবেক নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারে...

রাহুলকে ‘ব্যর্থ পণ্য’ বলে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ মোদির
২৪ অক্টোবর ২০২৬

রাহুলকে ‘ব্যর্থ পণ্য’ বলে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ মোদির

ভোটার তালিকা সংশোধনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের তীব্র সমাল...

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮, ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩৯ বাড়ি
২৩ অক্টোবর ২০২৬

তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৮, ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩৯ বাড়ি

চীনের প্রত্যন্ত তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্ত...

বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের
২৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬৩৬ কোটি ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ জাপানের

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩৬ কোটি ডলারের বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক স্বৈরাচার ও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে তাঁর কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেছেন, এক পক্ষ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে, অন্য পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে