ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও দর্শকের হৃদয়ে এখনো উজ্জ্বল তার উপস্থিতি।
অভিনয় ক্যারিয়ারে পেয়েছেন তুমুল জনপ্রিয়তা, অসংখ্য দর্শকের ভালোবাসা এবং তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৯৫ সালে লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটো সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে পপির মিডিয়ায় পথচলা শুরু। এরপর প্রয়াত পরিচালক শহীদুল হক খানের পরিচালনায় প্যাকেজ নাটক ‘নায়ক’-এ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি।
এরপর চলচ্চিত্রে পা রাখেন পপি। প্রয়াত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’ সিনেমায় শাকিল খানের বিপরীতে অভিনয় শুরু করেন। তবে সিনেমাটি মুক্তির আগেই ১৯৯৭ সালের ১৬ মে মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ মুক্তি পায়।
ফলে এটিই পপির প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা হিসেবে পরিচিত। একই বছরের ২০ জুন ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে শওকত জামিল পরিচালিত ‘দরদী সন্তান’ মুক্তি পায়। পরে ৩ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে আসে ‘আমার ঘর আমার বেহেস্ত’। ১৯৯৮ সালে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুর ‘এই মন তোমাকে দিলাম’, মোতালেব হোসেনের ‘ভালোবাসার ঘর’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন পপি।
এরপর একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করে নেন তিনি। এরপরের যাত্রাটা সবার জানা। নিজের দীর্ঘ চলচ্চিত্রজীবন প্রসঙ্গে পপি বলেন, ‘দীর্ঘদিনের চলচ্চিত্র জীবনে আমি এ দেশের কোটি কোটি সিনেমাপ্রেমী দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি।
চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে সিনিয়র শিল্পীদের স্নেহ-ভালোবাসায় ধন্য হয়েছি।
এছাড়া পুরো চলচ্চিত্র পরিবারের ভালোবাসা তো ছিলই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আজকের পপি যা কিছু, তার সবটুকুই আসলে চলচ্চিত্র ও দর্শকের ভালোবাসা থেকে পাওয়া। যে কারণে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রতি আমার অগাধ শ্রদ্ধা-ভালোবাসা সবসময়ই থাকবে।’
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পপি অভিনয় করেছেন ‘চারিদিকে শত্রু’, ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘কে আমার বাবা’, ‘লাল বাদশা’, ‘দুজন দুজনার’, ‘প্রাণের প্রিয়তমা’, ‘ক্ষ্যাপা বাসু’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘রানী কুঠির বাকী ইতিহাস’, ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘কী যাদু করিলা’, ‘কারাগার’, ‘গঙ্গাযাত্রা’ ও ‘বস্তির রানী সুরিয়া’সহ বেশ কিছু আলোচিত সিনেমায়।
অভিনয়ের স্বীকৃতিও এসেছে একাধিকবার।
কালাম কায়সার পরিচালিত ‘কারাগার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান পপি। এরপর ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আরও দুবার একই পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
এছাড়া বাচসাস, বাবিসাস ও ট্র্যাব অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সংগঠনের পুরস্কারও অর্জন করেছেন এই অভিনেত্রী।
রূপালি পর্দা থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকলেও পপির অভিনয়ের সেই স্বর্ণালি সময় এখনো দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন। তিন দশকের পথচলায় অর্জন করা সাফল্য, পুরস্কার আর ভালোবাসায় তিনি হয়ে আছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত এক নাম।
ডিসি/আপ্র/১০/০৮/২০২৬