জনের প্রাণহানির পরিসংখ্যান আমাদের জাতীয় বিবেককে নতুন করে নাড়া দিয়েছে। প্রতিদিন ঝরে যাওয়া এই তাজা প্রাণগুলো কেবল সংখ্যার পরিসংখ্যান নয়, একেকটি ভেঙে যাওয়া পরিবার ও অপূরণীয় মানবিক ক্ষতি। বিভিন্ন সময়ে সড়কে এই লাগামহীন প্রাণহানি প্রমাণ করে যে, আমাদের পরিবহন খাতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গভীর ও মৌলিক ত্রুটি রয়ে গেছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও আইনের কড়াকড়ি প্রয়োগের অভাব পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে দিন দিন।
বলা বাহুল্য, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বারবার নানা প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গেলেও দৃশ্যমান ও দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। আইনের কঠোর বাস্তবায়ন না থাকায় চালক ও সংশ্লিষ্টরা নিয়ম ভাঙতে দ্বিধাবোধ করেন না- যা পথচারী ও যাত্রীদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। এর পাশাপাশি মহাসড়কে নছিমন-করিমনের মতো অবৈধ ও ধীরগতির যানবাহনের অবাধ চলাচল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এ মরণফাঁদকে আরো চওড়া করছে। শুধু চালকদের ওপর এককভাবে দোষ চাপিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়, এ প্রয়োজন সড়ক পরিকাঠামোর আধুনিকায়ন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন।
বলার অপেক্ষা রাখে না, সড়কে মৃত্যু মিছিলের অবসান ঘটাতে নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। অবিলম্বে সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং হাইওয়ে পুলিশের টহল ও জবাবদিহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে পথচারীদের সচেতনতা এবং চালকদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও মানবিক জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা জরুরি। একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলিত সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা না গেলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এই মর্মান্তিক মৃত্যুর মিছিলে বারবার হোঁচট খাবে। তাই আমাদের প্রত্যাশা, সড়ক দুর্ঘটনায় নীরব মহামারি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে সরকার।
ছবি সংগৃহীত
কেএমএএ/আপ্র/০৬.০৮.২০২৬