চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, অর্থগুলো বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের।
এ ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন মো. জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কোতোয়ালি থানায় করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ। মামলায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন।
ব্যাংকের এজাহার অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়।
ঘাটতির বিষয়ে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যাংকের অভিযোগ, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় কামরুল হোসেন ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
তবে মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার ছেলে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন এবং অগ্রণী ব্যাংকের ওই শাখার গ্রাহকও নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের সঙ্গে তার ছেলের সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণও দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
আজিম উল্লাহর ভাষ্য, ৯ আগস্ট রাতে ব্যাংক থেকে তার স্ত্রীকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছেন। তাকে টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও কীসের টাকা বা কত টাকা, তা পরিষ্কার করা হয়নি। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে তার ছেলে ও কামরুল হোসেনকে থানায় নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তার প্রশ্ন, যদি ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্টের মধ্যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে এক বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিত হিসাব ও তদারকিতে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি ধরা পড়ল না কেন। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি দাবি করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় ভল্টের বিপুল অর্থের ঘাটতি কীভাবে তৈরি হলো, নিয়মিত হিসাব ও তদারকিতে তা আগে কেন ধরা পড়েনি এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তেই পরিষ্কার হবে।
এসি/আপ্র/১৩/০৮/২০২৬