আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে ৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা।
সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এডিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬১ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা।
বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এডিবি জানায়, ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে, যা দেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর আগে দুই দিনের ঢাকা সফরে চারটি প্রকল্পের জন্য সরকারের সঙ্গে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি সই করে এডিবি। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং এডিবির মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
মাসাতো কান্দা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, প্রবৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি বাংলাদেশের পাশে থাকবে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ আরও বাড়বে।
সংস্থাটি জানায়, চলমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা বাড়ানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, সার ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত ২৫ কোটি ডলার সহায়তাও দেওয়া হবে।
এডিবির মতে, দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতও চাপের মুখে আছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সংস্থাটি অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং অতিরিক্ত অর্থায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে কাজ করবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সমন্বিত প্রবৃদ্ধি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন উদ্যোগ’-এর আওতায় এ ৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বাস্তবায়ন করা হবে। এর লক্ষ্য বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
এডিবি জানিয়েছে, মধ্যমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য তাদের বার্ষিক সার্বভৌম প্রতিশ্রুতি তহবিল ২ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশ বাড়তি এ অর্থায়ন বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন জোরদার এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া দেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে এডিবি।
ঢাকা সফরকালে মাসাতো কান্দা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচি, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন এবং প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধিতে এডিবির সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা, পুঁজিবাজার শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্প প্রস্তুত এবং সহ-অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়।
সোমবার রাতেই এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
সানা/আপ্র/২৫/৫/২০২৬