ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রসূতি মা ও তাঁদের স্বজনরা। জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় গত জুন মাস থেকে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার। ফলে জরুরি প্রয়োজনে প্রসূতিদের অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ, যাতায়াতের সময় এবং চিকিৎসাব্যয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে প্রসবের জন্য ১৬০ জন নারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি ১৩৪ জনের মধ্যে ৯৮ জনের স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। তবে অবশিষ্ট ৩৬ জনের প্রসবের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের কার্যক্রম চালু থাকলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে রোগীদের অন্য হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে রোগী স্থানান্তরের কারণে চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারগুলোকে এ পরিস্থিতিতে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরামর্শক বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় রোগীরা।
ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পার্শ্ববর্তী পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলানোর পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হাসপাতালটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রিয়াঙ্কা কুন্ডু বলেন, “গত তিন মাসে ১৬০ জন ডেলিভারির জন্য হাসপাতালে আসেন। এর মধ্যে ২৬ জনকে রেফার করা হয়েছে। বাকি রোগীদের মধ্যে ৯৮ জনের নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। আমাদের অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে। তবে কনসালট্যান্ট না থাকায় জুন মাস থেকে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “অপারেশন থিয়েটার চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে তাঁরা এই মুহূর্তে কনসালট্যান্ট দিতে পারছেন না।”
স্থানীয়দের দাবি, ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দিয়ে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার আবারো চালু করা হোক। তাঁদের মতে, সরকারি হাসপাতালে এ সেবা চালু হলে প্রসূতি মা ও নবজাতকের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি দূরের হাসপাতালে যেতে গিয়ে রোগীদের যে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, তা-ও কমবে।
এ অবস্থায় প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং বন্ধ থাকা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার পুনরায় চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সানা/আপ্র/২৭/১০/২০২৬