বাবা-সুপারহিরো
পূর্ণিয়া সামিয়া
তোমাকে বলা হয় না ভালোবাসি,
তোমার গাম্ভীর্যতায়
এক পৃথিবী আদর মাখা,
তোমার শাসনের জোড়া চোখেই
আকাশ জয়ের স্বপ্ন দেখা।
তোমার গর্জনের সুরে
সম্ভাব্য বিপদের সাবধানতা,
তোমার না বলা অভিমান গুলোই
আশীর্বাদের মমতা,
অবুঝ বায়নার কাছে।
তোমার দীর্ঘশ্বাসেরা সারেন্ডার করে,
যেন একফালি হাসির কাছে
তোমার সমস্ত বুকের ব্যাথা মিছে!
কঠিন পথের ছড়ানো কাঁটা
ওপরে চলেছি তোমার সাহসে,
উদ্দমতার নতুন দিশা তুমিই
দেখিয়েছো স্নেহের পরশে।
তোমার বিশালতার ছায়ায়
ভরসা গুলো
সমস্ত ক্লান্তি মুছে ফেলে
পরম নিশ্চিন্তে ঘুমায়।
প্রকৃতির অন্তরীপে প্রেম
প্রদীপ্ত মোবারক
মেঘেরা আজ পাহাড়ের কপালে
অলিখিত উপাখ্যানের মতো নতজানু-
সবুজের গভীর শিরায় শিরায়
প্রাচীন পৃথিবীর নিঃশব্দ রক্তস্রোত প্রবাহিত হয়।
ঝর্ণা তার স্বচ্ছ উচ্চারণে
পাথরের অনমনীয় অভিধান ভেঙে
জলের বর্ণমালা লিখে চলে।
আমি দাঁড়াই-
প্রকৃতির অনন্ত ব্যাকরণে
একটি অসমাপ্ত বাক্যের মতো।
আমার সমস্ত উচ্চারণ
বাতাসের কাছে ঋণী,
সমস্ত নীরবতা
তোমার অনুপস্থিতির দীর্ঘ প্রতিধ্বনি।
মেঘ যখন পাহাড়কে স্পর্শ করে,
তখন আকাশ তার অহংকার ত্যাগ করে;
সবুজ যখন বৃষ্টির অক্ষরে দীপ্ত হয়,
তখন পৃথিবী নিজের জন্মকথা পুনরায় পাঠ করে।
আর ঝর্ণা-
সে তো কেবল জল নয়,
সময়ের ক্ষয়িষ্ণু বক্ষদেশে
অমরতার অনবরত স্বাক্ষর।
নিলয় গোস্বামীর গুচ্ছকবিতা
বিভোর পথিক
তোমার চোখেতে তারাপথ খেলা করে
মনেতে সাজানো রঙিন ফানুস গলি
গান ধরে নাও হঠাৎ কেমন স্বরে...
নীরব থেকেও স্বপ্ন বপন করি।
কী জানি কী করে এমন সজীব রেখো
এতা দহন সহে ফেরা নীল মুখ...
পথে পথে চলো কুড়ায়ে অজানা সাঁকো
ভালোবাসা জানে মৌনতা কত সুখ।
বিভোর পথিক, থেমে যাও ভুলে আজ
ভবঘুরে দিন বাঁচিয়ে রেখো না যেন
থাক না শপথ- বাহানার শত বাজ
মনের বারণ মাদুলিতে হাসে কেন!
ছাতা
আমাদের রোদ আজ ছাতা ভুলে ফেলে গেছে দূরে।
চোখে তার বায়স্কোপি গান।
ঠোঁটে লেগে আছে কার হোমারের সংগ্রহের বুলি?
ঘাটশিলার চোখ বেয়ে নামচে ভ্রমণের আদি মোড়!
দোনাভরা স্বপ্ন নিয়ে মৃণ¥য়ী দেহদানের ঘোর
শেষ শেষ করে থামে;
কিন্তু প্রতীক্ষার গোঁফ টেনে আরও মূলে করে স্থিতি।
নাভিমূল জানে ঝড় আসা ইশারার নোনাবেগ।
ঈশানী হাওয়ায় শিখে
ফুলডুংরির রোদমাখা আদর।
বর্ষণ যদিও রুক্ষ হয়, তবু পরিচয় তার
তৃপ্তিতেই জেগে থাকে।
আমাদের রোদ ছাতা ফেলে কত জেনে গেছে;
মধুমাখা স্থিতি আর দেহমেঘের কী বনিবনা...
সঞ্চয়
হাত শুধু পাতা ছুঁয়ে ভেবে আছে ফুল
মেঘ দাগ টেনে নিজেকে করেছে কূল
চোখ খুঁজে রেখে দেয় ছড়ানো পালক
রোদ পারাবার গিলে নেমে গেছে দেহে।
কোনো অজুহাত মানে না রসালো সন্ধ্যা
পাতার পিঠেই জ্বলে আজ শিশু আলো
বারণে মাস্তুল নামে নধরের মূলে
অকারণ ভুলে গেঁথে যায় দেহবাণ।
ভ্রমণে সঞ্চয় থাক গিরিখাতে জমা
আগামীর পথ হলো ভ্রমণে রচনা।
মোহ
আভিজাত্যের দেরাজ
খুঁজতে খুঁজতে আমি অতিক্রম করি ইচ্ছামোহ।
যে গ্রহের ছায়াবনে খুদকুঁড়ো ছিটিয়ে
সাজিয়েছি হরিণী সংসার
এখন সেখানে চলে বেজির সন্ন্যাস পালা।
নাগপুত্র, শুনো,
ফণীমনসার প্রতিযোগ বৈভব মানে না,
বিস্তৃত উইয়ের ঢিবি জানে
প্রাচুর্য কখনো দিকপাল হতেই পারে না।
সময় পিতার মতো আকাশকে শাসিয়ে রাখে যেন
জলের সংলাপ চিরস্থায়ী বৃত্তান্ত প্রকাশ করে।
রাতভাষ্যে তীব্র হয় দেহগানের ঋষভ,
শব্দমোহে বেড়ে যায় কবিজন্মের ঋণ।
নীড় পেতেছে শালিক এখন
তানজিদ শুভ্র
রোজ সকালে নিয়ম করে
একটি শালিক আসত,
বারান্দার ওই গ্রিলের পাশে
চুপটি করে বসত।
যত্ন সে তো পায়নি কোনো
তবুও আমায় দেখত,
কী জানি কী আপন ভেবে
অপেক্ষাতেই থাকত।
হুট করে আজ শালিকটা আর
আসে না তো ফিরে,
নিয়ম করে বসে না কেউ
এই বারান্দা ঘিরে।
অভ্যাসের এই অনভ্যাসে
অপেক্ষাতেই থাকি,
তবুও আমি পাই না দেখা
কোথায় গেল পাখি!
খোঁজ নিয়ে দেখতে পেলাম
পাশের অট্টালিকায়,
নীড় পেতেছে শালিক এখন
সময় কোথায় পায়!
কেএমএএ/আপ্র/৩১.০৭.২০২৬