যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোয় গত এক বছরে প্রায় ১২ হাজার বই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন পেন আমেরিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পাঁচ বছর আগে স্কুলে বই নিষিদ্ধের হিসাব রাখা শুরু করার পর এবারই সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার ঘটনা ঘটেছে। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন লেখক স্টিফেন কিং।
ফ্লোরিডা ও টেক্সাসে বই নিষিদ্ধের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। রাজ্য দুটিতে বইয়ের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে আইন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনীতিক ও রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলোও বিভিন্ন বই স্কুল থেকে সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছে। কোন বই সরানো হবে, তা বাছাই করতে স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহারও বাড়ছে।
বই নিষিদ্ধ করার পেছনে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, সেগুলো হলো বর্ণ, বর্ণবাদ, যৌনতা ও লিঙ্গপরিচয়।
পেন আমেরিকার ‘ব্যানড ইন দ্য ইউএসএ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুলের গ্রন্থাগার শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন এবং নানা মত ও চিন্তার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। বই নিষিদ্ধ করা হলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের লেখা, মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বঞ্চিত হয়। এতে তাদের বই পড়ার স্বাধীনতাও বাধাগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদনে মোট ১১ হাজার ৯৮২টি বই নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা পাওয়া গেছে। এতে ৭ হাজার ৩৭০টি আলাদা বইয়ের নাম আছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি বই এবারই প্রথম নিষিদ্ধের তালিকায় এসেছে। এসব বইয়ের মধ্যে রয়েছে উনিশ শতকের উপন্যাস জেন আয়ার এবং সুই ইশিদার মাঙ্গা সিরিজ টোকিও গুল।
লেখক স্টিফেন কিংয়ের বই সরিয়ে ফেলা হয়েছে ৩১২ বার। এর মধ্যে রয়েছে দ্য শাইনিং ও দ্য গ্রিন মাইল। আর একক বই হিসেবে সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে প্যাট্রিক ম্যাককরমিকের সোল্ড। ভারতে যৌন দাসত্বে বিক্রি হয়ে যাওয়া এক মেয়েকে নিয়ে লেখা উপন্যাসটি ২৫ বার সরিয়ে ফেলার তথ্য পেয়েছে পেন আমেরিকা।
নিষিদ্ধের তালিকায় আরও রয়েছে মার্গারেট অ্যাটউডের দ্য হ্যান্ডমেইডস টেল, লরি হ্যালস অ্যান্ডারসনের স্পিক এবং এলেন হপকিন্সের ক্র্যাঙ্ক। স্পিক উপন্যাসে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর কথা বলা বন্ধ করে দেওয়া এক কিশোরীর গল্প বলা হয়েছে। ক্র্যাঙ্ক উপন্যাসের বিষয় মাদকাসক্তি।
পেন আমেরিকা ও আমেরিকান লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশন—দুটি সংগঠনই জানিয়েছে, ২০২০ দশকের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বই নিষিদ্ধের ঘটনা অনেক বেড়েছে। তবে বই নিষিদ্ধের হিসাব রাখার পদ্ধতি দুই সংগঠনের আলাদা। পেন আমেরিকা কোনো বই সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেললেও সেটিকে নিষেধাজ্ঞা হিসেবে ধরে। অন্যদিকে আমেরিকান লাইব্রেরি অ্যাসোসিয়েশন শুধু স্থায়ীভাবে সরিয়ে ফেলা বইয়ের হিসাব রাখে। সংগঠনটির এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের এক বছরে বই নিষিদ্ধের ঘটনা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৬০০। সূত্র: এপি।
কেএমএএ/আপ্র/৩০.১০.২৬