আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগে ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগালের ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার সম্ভাব্য শেষ বা বিদায়ী ম্যাচ হতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে পর্তুগালের ক্লাসিক্যাল ভেন্যু স্পোর্টিং সিপির এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে, যা রোনালদোর ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকা স্পোর্টিংয়ের অ্যাকাডেমি থেকেই উঠে এসেছিলেন এবং ২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার আগে এই পর্তুগিজ ক্লাবের হয়েই সিনিয়র ফুটবলে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।
সাংবাদিক মোহাম্মদ আওয়াদকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে পুরোপুরি সরে দাঁড়ানোর আগে ওয়েলসের বিপক্ষে পর্তুগালের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন রোনালদো।
আওয়াদ জানান, এক পর্তুগিজ এজেন্টের কাছ থেকে তিনি এই তথ্য পেয়েছেন। তবে নেশনস লিগের এই ম্যাচটিই তার শেষ ম্যাচ হবে কি না, সে বিষয়ে রোনালদো বা পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিশ্চিত বার্তা দেওয়া হয়নি।
পর্তুগাল ও ওয়েলসের এই ম্যাচটি তাদের ২০২৬-২৭ নেশনস লিগ অভিযান শুরুর সূচি হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে। রোনালদো যদি এই ম্যাচে মাঠে নামেন এবং পরবর্তীতে অবসরের ঘোষণা দেন, তবে এর মাধ্যমে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক অবিশ্বাস্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটবে।
পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২৩৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে পুরুষ ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৪৬টি গোল করেছেন রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড দুটি আগেই নিজের করে রেখেছেন তিনি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর থেকেই জাতীয় দলে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র জল্পনা-কল্পনা চলছিল।
গত ৬ জুলাই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল, যা ছিল রোনালদোর ষষ্ঠ ও শেষ বিশ্বকাপ অভিযান।
সেই পরাজয়ের পর রোনালদো এটিই তার শেষ বিশ্বকাপ ছিল বলে নিশ্চিত করলেও, পর্তুগাল দল থেকে সরাসরি অবসরের ঘোষণা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। স্পেনের বিপক্ষে হারের পর তিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, এটিই ছিল আমার শেষ বিশ্বকাপ, তবে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করার জন্য আমার কাছে যথেষ্ট সময় আছে।
কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেব না।’ তাই সাম্প্রতিক এই রিপোর্টটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নিজ দেশের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর জন্য পর্তুগাল ক্যারিয়ারের মেয়াদ আর মাত্র একটি আন্তর্জাতিক উইন্ডো পর্যন্ত বাড়াতে পারেন রোনালদো।
২০০৩ সালের আগস্টে কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচের মাধ্যমে পর্তুগাল সিনিয়র দলে অভিষেক হয়েছিল রোনালদোর। এরপর থেকে তিনি দেশের হয়ে ছয়টি বিশ্বকাপ এবং ছয়টি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে (ইউরো) প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
অধিনায়ক হিসেবে ২০১৬ সালের ইউরোতে পর্তুগালকে তাদের প্রথম প্রধান আন্তর্জাতিক ট্রফি এনে দেন এবং পরবর্তীতে ২০১৯ সালে প্রথম উয়েফা নেশনস লিগ জয়েও নেতৃত্ব দেন। বিশ্বকাপের পর নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে পর্তুগাল দল, যেখানে প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন হোর্হে জেসুস।
এই নতুন কোচের অধীনে তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সে ব্যাপারে রোনালদো প্রকাশ্যে এখনো কিছু নিশ্চিত করেননি। তবে আপাতত, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখটি কেবলই একটি ‘সম্ভাব্য বিদায়ী তারিখ’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, অফিশিয়াল কোনো অবসর নয়।
কিন্তু ওয়েলসের বিপক্ষে এই ম্যাচটি যদি সত্যিই তার শেষ ম্যাচ হয়, তবে যে স্টেডিয়াম থেকে রোনালদোর সিনিয়র ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল, ঠিক সেখানেই পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্সিতে নিজের মহাকাব্যিক যাত্রার সমাপ্তি টানবেন এই কিংবদন্তি।
ডিসি/আপ্র/২৫/০৭/২০২৬